মোঃ মনিরুজ্জামান, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রিজের সংযোগ সড়ক উদ্বোধনের মাত্র এক মাসের মাথায় ধসে পড়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীদের ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সন্দেহ।
উপজেলার সফিপুর–বড়ইবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের মকশ বিল এলাকায় নির্মিত ব্রিজটির এক পাশের সংযোগ সড়ক হঠাৎ ধসে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ—এটি কোনো প্রাকৃতিক কারণে নয়, বরং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও তড়িঘড়ি কাজের ফল।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, “এত বড় বাজেটের কাজ এক মাসেই ধসে পড়ে—এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে সন্দেহ ছিল।”
আরেক বাসিন্দা মো. হযরত আলী অভিযোগ করেন, “দ্রুত কাজ শেষ দেখানোর জন্য দায়সারা কাজ করা হয়েছে। ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহার করলে এমনটা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না করেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে করে প্রকল্পের গুণগত মান যাচাইয়ের আগেই কাজটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়—যা প্রকৌশল নীতিমালার চরম অবহেলার শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটি ভরাট, কম্প্যাকশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও উপকরণের মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ধাপে গাফিলতি হলে অল্প সময়েই এমন ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আল মামুন বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে সড়কের অংশ ধসে পড়েছে।” তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এক মাসের মধ্যেই যদি একটি নতুন সড়ক বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে, তাহলে নির্মাণের মান কতটা ছিল?
এ ঘটনার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যথাযথ তদারকি করা হয়েছিল কি না, নাকি দায়িত্বপ্রাপ্তরা চোখ বন্ধ করে কাজ পাশ করিয়ে দিয়েছেন—তা নিয়েও সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের জবাবদিহির আওতায় এনে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে।