ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
মো. সেলিম হোসেন,
গোপালপুর থেকে:
যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া স্লুইসগেট এলাকায় তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার ভাঙনের ফলে সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশের অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে গত তিন দিন ধরে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে। মঙ্গলবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আরও বেশি পরিমাণে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিরোধকাজ শুরু হয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, বাকিটা আল্লাহর ওপর। জেলা প্রশাসক, সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, অর্থের কোনো সংকট নেই। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই সক্ষম। তবে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আউয়াল বলেন, মঙ্গলবার নদীর তলদেশে ইকো সার্ভে করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, নদীর তলদেশের বেশ কিছু অংশ ক্ষয় হয়ে বাম তীরে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ঘূর্ণাবর্তের আঘাতেই বাঁধটি ভেঙে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জিও ব্যাগ ফেলা হবে। সিরাজগঞ্জ থেকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ট্রলারের মাধ্যমে এনে ডাম্পিং করা হচ্ছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই।
পরিদর্শনের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড, গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।