মো. নাজিম আলী, রাঙামাটি প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, অভিযোগ ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। রবিবার ১০ মে ২০২৬ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় […]
মো. নাজিম আলী, রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, অভিযোগ ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।
রবিবার ১০ মে ২০২৬ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে উপাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বছর চার মাসে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি কার্যকর ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতির মূল্যায়নের দায়িত্ব তিনি গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার ওপর ছেড়ে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের কেন্দ্র। এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গোষ্ঠীস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সম্প্রতি উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে তাঁর কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনাকে তিনি অছাত্রসুলভ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভিসি অভিযোগ করেন, গত ৫ মে রাজনৈতিক ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী পুনর্বাসন সংক্রান্ত যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, তাঁর প্রশাসনের সময়েই পূর্ববর্তী সরকারের ছাত্রসংগঠনের প্রায় দশজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আপৎকালীন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে ড. নিখিল চাকমাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিও অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ড. নিখিল চাকমা দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় প্রধানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ইউজিসির অডিট আপত্তি প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, এটি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এ ধরনের অডিট আপত্তিকে দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হাস্যকর। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা প্রদান করেছে এবং অনেক বড় বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের অসংখ্য অবজারভেশন থাকে।
নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ ও পদোন্নতি কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে হয় না; নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অভিযোগকারীরা যাচাই-বাছাই ছাড়াই কিছু ডকুমেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
উপাচার্য আরও জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ছিল প্রকট। মাত্র ১৯ থেকে ২০ জন শিক্ষক নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল। বর্তমানে প্রায় ২৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ১০ জন বিদেশি পিএইচডিধারী। সেশনজট নিরসন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন স্থবির থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রী হল, সড়ক উন্নয়ন, পরিবহন পুল, নতুন বাস ক্রয়, ক্যানটিন উন্নয়ন, কনফারেন্স রুম, নামাজের স্থান, গেস্ট হাউস, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে কিংবা চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত কিছু শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত তৎপরতা ও প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি সন্দেহজনক এবং এর পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে উপাচার্য গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন-তখন তালা ঝুলিয়ে অচলাবস্থা তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সকল মহলের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।