[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

জাতীয়
১২:৩২ অপরাহ্ণ, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া উপায় খুঁজতে কমিটি’

ভােরের বাংলাদেশ” মশা নিধন সিটি করপোরেশনের প্রধান কাজগুলোর একটি। রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে কাজটি ঠিকমতো হচ্ছে না। যদিও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দাবি, কাজ নিয়মিতই হচ্ছে। কিন্তু মশা কেন মরছে না, সেটি নিয়ে তারাও চিন্তিত। মশার ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার জন্য একটি কমিটি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি […]

রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া উপায় খুঁজতে কমিটি’
৩ মিনিটে পড়ুন |

ভােরের বাংলাদেশ”
মশা নিধন সিটি করপোরেশনের প্রধান কাজগুলোর একটি। রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে কাজটি ঠিকমতো হচ্ছে না। যদিও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দাবি, কাজ নিয়মিতই হচ্ছে। কিন্তু মশা কেন মরছে না, সেটি নিয়ে তারাও চিন্তিত।

মশার ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার জন্য একটি কমিটি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এই কমিটি মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে দেখবে ওষুধে মশা মরছে কি না। একই সঙ্গে মশা নিধনে নিয়োজিত কর্মীরা ঠিকমতো কাজে যাচ্ছেন কি না, সেটিও যাচাই করে দেখবে এই কমিটি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, মশা নিধনের কাজে এখন ১ হাজার ৩০ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালে সাতজন ও বিকেলে ছয়জন কর্মী মশার ওষুধ ছিটানোর কথা। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ও নাগরিকদের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা।

দক্ষিণ সিটিতে একাধিকবার প্রশাসক বদল হলেও নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবার মশা নিধনের কাজে নিয়োজিত কিছু কর্মী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতির কারণে তাঁদের কিছু বলাও যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২০ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন জাতীয় প্রেসক্লাব, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও কাকরাইল এলাকার মূল সড়ক ও বিভিন্ন অলিগলি মোটরসাইকেলে ঘুরেছেন এই প্রতিবেদক। কোথাও মশকনিধন কর্মীদের দেখা পাওয়া পাওয়া যায়নি। সিটি করপোরেশনের সূচি অনুযায়ী, এই রমজান মাসে বেলা তিনটা থেকে ইফতারের আগপর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে ছয়জন করে কর্মীর মশা নিধনের কাজ করার কথা।

২০ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা দুই ঘণ্টা ঘুরেও মশকনিধন কর্মীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি—বিষয়টি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল–১–এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফারিয়া ফয়েজকে জানান এই প্রতিবেদক। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সচিবালয় এলাকায় মশা নিধনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মীরা গতকাল সচিবালয়ের ভেতরে মশার ওষুধ ছিটানোর কাজ করেছেন। ফলে অন্য কিছু এলাকায় তুলনামূলকভাবে কম ওষুধ ছিটানো হয়েছে। তবে এলাকা ভাগ করে মশা নিধনের কার্যক্রম নিয়মিতই পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ সিটিতে একাধিকবার প্রশাসক বদল হলেও নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবার মশা নিধনের কাজে নিয়োজিত কিছু কর্মী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতির কারণে তাঁদের কিছু বলাও যায় না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে শুধু মশা নিধন কার্যক্রমের জন্য ৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে ব্যয় করা হয়েছে ৪৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে–পরে ১০ থেকে ১৫ দিন মশা নিধনের কাজে ঢিলেমি ছিল, এটি হয়তো প্রকাশ্যে কেউ স্বীকার করবেন না। হঠাৎ মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার এটিও একটি কারণ।

গত দুই দিনে খিলগাঁও, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, লালবাগ ও চকবাজার—ঢাকা দক্ষিণ সিটির ছয়টি এলাকায় ঘুরেছেন এই প্রতিবেদক। এসব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানি মিলিয়ে ৩২ জনের সঙ্গে কথা হয়। প্রত্যেকেই বলেছেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে হঠাৎ মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে।

ফুটপাতের দোকানির মো. রোকন বলেছেন, মশার যন্ত্রণায় বিকেলের পর ঠিকমতো বেচাবিক্রি করা যায় না।

ধানমন্ডি লেকসংলগ্ন একটি বাড়ির বাসিন্দা আহমেদ রনি প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যার পর বারান্দায় দাঁড়ানো কঠিন হয়ে গেছে।

Facebook Comments Box
×
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com