গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী
আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং বালুমহাল কিংবা পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের সুযোগ বন্ধ করা হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথমে তিনি সফর করেন জৈন্তাপুর উপজেলা। সেখানে চলমান খাল খনন কর্মসূচির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের পর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী জৈন্তাপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সিলেট-৪ আসনের জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে রায় দিয়েছেন, তার প্রতিদান হিসেবে তাকে যে গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জনপদ জৈন্তাপুর একটি কৃষিসমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় উপজেলা। প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির সুফল জৈন্তাপুরবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে কৃষি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৭ থেকে ৮টি খাল খননের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে পর্যটন খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে জৈন্তাপুর উপজেলার অন্যতম পর্যটন স্পট
ডিবির হাওড় লালশাপলা বিল এলাকায় ক্যাফেটোরিয়া, শৌচাগার, পার্কিং সুবিধা, রেস্টহাউজ ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি
জিয়াউর রহমান-এর ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নবগঠিত সরকার দেশব্যাপী কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। তিনি বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যেই জনগুরুত্বপূর্ণ খাল ও জলাশয় খনন কর্মসূচির দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যাবে। কৃষি সম্প্রসারণের পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলজনিত বন্যা প্রতিরোধে খননকৃত খালগুলো যেন পরিবেশবান্ধব হয়, সেদিকেও সরকার গুরুত্ব দেবে।
সভা শেষে দুই মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এক চা–শ্রমিক কৃষানীর হাতে ভর্তুকি মূল্যে একটি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিন বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবার ও দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢেউটিন এবং ১৬ জন কর্মজীবী নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
এ সময় জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালু এবং জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক কোটা পূরণের দাবিতে মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এরপর বিকেলে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সফর করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা হবে এবং কোনো বালুমহাল বা পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে বালু–পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
মন্ত্রী জানান, নির্বাচনের সময় সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি চালুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করা হবে। একই সঙ্গে গোয়াইনঘাটের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী মার্চ মাস থেকেই গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হবে। পাশাপাশি উপজেলার বড় পুকুরের চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করেই এ এলাকার শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গোয়াইনঘাটে এটি তার প্রথম সফর উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এক বছরের মধ্যেই গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে এবং আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
