নিজস্ব প্রতিবেদক:
আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান জানিয়েছেন, ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, “ভূমি দস্যুরা দেশ ও জাতির শত্রু। ব্যক্তিস্বার্থে তারা যে কোনো অনৈতিক কাজে জড়াতে পারে, কিন্তু তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানান অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। এসিল্যান্ড বলেন, “আমরা সরকারের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা। জনগণের টাকায় আমাদের বেতন হয়, তাই জনগণের অধিকার রক্ষাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব।”
জাল খতিয়ান ও প্রতারণার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা
সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে এসিল্যান্ড জানান, ঘটনাটি তার পূর্বসূরির সময়ের হলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মিস মোকদ্দমার রায় ও সেই সূত্রে তৈরি নামজারি জোত বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে প্রস্তুত ৯৮৮ নম্বর খতিয়ান অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংশোধিত খতিয়ান অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, ৩১৫/২৪ নম্বর মিস মোকদ্দমায় বাদী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জাল খতিয়ান দাখিল করেছেন, যা সরকারি জমি আত্মসাতের অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। এ ঘটনায় সরকারের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি জমি উদ্ধার—অভিযান অব্যাহত
এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খান বলেন, প্রতারণা করে সাময়িকভাবে কেউ লাভবান হলেও স্থায়ীভাবে সরকারি জমি দখল সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মেপে সরকারের পক্ষে দখল নেওয়া হয়েছে।
একটি দীর্ঘদিনের মামলার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে চলমান মামলায় রায়প্রাপ্ত ব্যক্তিকে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন।
তার কথায়, “বিভিন্ন সময়ে দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার করা হচ্ছে এবং এই অভিযান চলমান থাকবে।”
ভূমি দস্যুদের সতর্কবার্তা
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি যতদিন দায়িত্বে আছি, ততদিন সরকারি স্বার্থ সমুন্নত রেখেই কাজ করব। কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়।”
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এসিল্যান্ড বলেন,
“আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সত্য ও সঠিক তথ্য প্রকাশ পাবে—এটাই প্রত্যাশা। কোনো প্ররোচনায় ভুল তথ্য প্রকাশ করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সেবাপ্রার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে দ্রুত ও সঠিক সেবা পান, সে বিষয়ে তিনি সবসময় সচেষ্ট।
“যে কোনো প্রয়োজনেই আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল জনগণের পাশে থাকবে,”—যোগ করেন তিনি
