ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদন:
বাংলাদেশ রেলওয়ের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আলোচনায় উঠেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সালাউদ্দিন রিপন। রেলসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ট্রেনগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশই তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ফলে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ‘অঘোষিত সম্রাট’ তকমা।
রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রিপনের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এই নেতা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ উপকমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি রেলওয়ে শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন নামে একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনার দরপত্রে অংশ নেন রিপন। অভিযোগ রয়েছে, একই নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং কম দরেও কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৩৭টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৩২টির ইজারা রিপন ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
রিপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে—মেসার্স এসআর ট্রেডিং, এলআর ট্রেডিং, এনএল ট্রেডিং এবং টিএম ট্রেডিং। এর মধ্যে প্রথম তিনটির মালিকানা রিপনের, আর টিএম ট্রেডিংয়ের মালিক তার স্ত্রী মিফতাহুল জান্নাত লুনা। এসব প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর মতিঝিলের একটি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। একই ঠিকানায় পরিচালিত আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও দরপত্রে অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে পরিচালিত বলাকা, মহুয়া, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জ, কর্ণফুলী, তিতাস ও সাগরিকা কমিউটার ট্রেনসহ একাধিক ট্রেনের ইজারা এই দম্পতির প্রতিষ্ঠানের অধীনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা-সমালোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
