ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:
দেশের বিভিন্ন স্থানে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) পরিচালিত টানা অভিযানে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য, শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক সম্রাট ও অস্ত্রধারী অপরাধীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের উপকূলে একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে পাঁচ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
১০ এপ্রিল ২০২৬ কাওরান বাজারস্থ র্যাব মিডিয়া সেন্টারে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক এসব সফল অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, চট্টগ্রামে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন করার চাঞ্চল্যকর ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে র্যাব-৭ ও র্যাব-৯ এর যৌথ দল গ্রেফতার করে মূল অভিযুক্ত মো. সবুজকে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সদর থানায় আরও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত মাদক কারবারি মাহবুবুর রহমান ওরফে কাইল্লা রক্সিকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি মামলা ও জিডি রয়েছে। একই দিন কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্য নেওয়ামত উল্লাহ ও শাহ আলমকে গ্রেফতার করে অপহৃত চারজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে র্যাব।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রপথে মিয়ানমার থেকে আসা মাদকের একটি বড় চালান আটক করা হয়। একটি মাছ ধরার ট্রলারে অভিযান চালিয়ে পাঁচ লাখ পিস ইয়াবাসহ নয়জনকে গ্রেফতার করে র্যাব। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি ও পাঁচজন রোহিঙ্গা। সাম্প্রতিক সময়ে এটি চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ইয়াবা জব্দের ঘটনা বলে জানান র্যাবের কর্মকর্তা।
খুলনায় র্যাব-৬ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে হরিণটানা এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মো. সুজন সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি থেকে একটি শটগান, একটি ওয়ান শুটার গান ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্রসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
এছাড়া ৮ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৫১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪,৬৮,৪৩৯ লিটার ভোজ্য তেল অবৈধভাবে মজুদ রাখার দায়ে ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৫০ হাজার লিটারের বেশি তেল জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে র্যাব জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব ভবিষ্যতেও আরও কঠোর ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।
