নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিনস্ত ভূমি অধিগ্রহণ (এল এ) শাখাটি দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুষখোর- দুর্নীতিবাজদের অনিয়ম, অপকর্মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে । এই শাখার কোটিপতি কানুনগো মোহাম্মদ জুলফিকার আলী ভুট্টো, আতিকুর রহমান ও নিম্মে উল্লেখিত কোটিপতি সার্ভেয়ারদের ঘুষ দুর্নীতি নানান অনিয়ম অপকর্মের ফিরিস্তিতে চোখ বুলালে আপনার চোখ কপালে উঠবে । এল এ শাখার একাধিক কানুনগো ,সার্ভেয়ার নানার অনিয়ম ঘুষ, দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা ও বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে এল এ শাখার একাধিক কানুনগো – সার্ভেয়ারদের বিরুদ্ধে ।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা গেছে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার বেশ কয়েকজন কানুনগো সার্ভেয়ার ঘুরেফিরে বছরের পর বছর এল এ শাখা -১ (এক) থেকে২-( দুই) দুই থেকে -৩( তিন) তিন থেকে৪- (চার )চার থেকে ৫-(পাঁচ) একই জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় থেকে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দুর্নীতির বীজ বপন করে ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে দুর্নীতিবাজ উর্ধ্বতন কিছু ব্যক্তির সহায়তায় এখনো আছে বহাল তবিয়তে। এদের মধ্যে অনেকেই ছিল বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর তবে মজার বিষয় হল ২৪ এর ৫ই আগস্ট পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন দল গোষ্ঠীর ব্যক্তির পরিচয়ে নিজের চেয়ার টিকিয়ে রাখতে এখন বিভিন্ন দল ও প্রভাবশালী রাজনীতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করছে চক্রটি। এ সকল দুর্নীতিবাজ কানুনগো – সার্ভেয়াররা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মোটা অংকের বিল ছাড় করিয়েছে চক্রটি । ইতিমধ্যে আরো কয়েকটি বিল ভুয়া বিল ভাউচার ও অবকাঠামো মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করে বিল ছাড়াতে চেষ্টা করছে এই চক্রটি । এই চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন কানুনগো মোহাম্মদ জুলফিকার আলী ভুট্টু । তিনি বছরের পর বছর ঘুরে ফিরে রয়েছে একই জায়গায়। এই কানুনগো অবৈধ পন্থায় অর্জন করেছেন প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদ।
ঢাকা জেলা এল এ শাখায় দুর্নীতি নানান অনিয়ম অপকর্ম এবং ভুয়া বিল ভাউচারের, অবকাঠামোর অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ সাথে জড়িত থেকে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের বিল ছাড়াতে ১০ পার্সেন্ট থেকে ৭ পার্সেন্ট পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে যাদের নাম আসে তারা হল :এল এ শাখা – ৩ এর কানুনগো মোহাম্মদ জুলফিকার আলী ভুট্টো ,এল এ শাখা -২ এর কানুনগো আতিকুর রহমান ও সার্ভেয়ার বাদল, সার্ভেয়ার মনিরুল ইসলাম ,সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান (মিজানুর রহমান তার অপকর্ম ধামাচাপা দিতে কিছুদিন আগে বদলীর হয়ে নরসিংদী চলে গিয়েছে) সার্ভেয়ার বাবুল আক্তার, সার্ভেয়ার সেলিম রেজা (যার বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ রয়েছে । তেজগাঁও থাকাকালীন দুর্নীতি ও নানান অনিয়ম, অপকর্ম করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন সেলিম রেজা । এল এ শাখায় এসে পূর্বের কায়দায় ধরা কে সরা করছে এই সার্ভেয়ার, সার্ভেয়ার মেজবাহ উদ্দিন, সার্ভেয়ার মোশারফ হোসেন, সার্ভেয়ার রুহুল আমিন, সার্ভেয়ার জাকির হোসেন, সার্ভেয়ার জুয়েল, (এই জুয়েল তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনের সহযোগী ছিল, রিপনের নাম বিক্রি করে এল এ শাখায় অনেক দুর্নীতি করেছে বর্তমানে একই কায়দায় চলছে তার পথ) ও সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলম। ঢাকা জেলা এল এ শাখার উল্লেখিত কানুনগো – সার্ভেয়াররা ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা বিপুল সম্পদের মালিক । তাদের প্রত্যেকের রাজধানীর ঢাকায় রয়েছে একাধিক বাড়ি ,ফ্ল্যাট, দোকান ও দামি মডেলের গাড়ি এবং গ্রামের বাড়িতে আলিশান বাড়ি , বিঘা বিঘা জমি । নামে বেনামে এই সম্পদ এবং নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে তাদের । অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানান গেছে। আবার কারো কারো ছেলে মেয়েদের বিদেশে মোটা অংকের টাকা খরচ করে লেখাপড়া করাচ্ছেন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করা টাকায় । এল এ শাখায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা উঠাতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করতে যখন উক্ত দপ্তরে আসে তখন সার্ভেয়ার , কানুনগো ও তাদের নিয়োজিত দালাল চক্র বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে দেয় বিপুল অংকের টাকা এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। উল্লেখিত কানুনগো সার্ভেয়ারদের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির এমন অভিযোগ থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেয়ায় দিন দিন বেড়েই চলছে তাদের দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির দৌরত্ব । আবার এই দপ্তরে অনেক সৎ অফিসার রয়েছে । দুর্নীতিবাজ কিছু সার্ভেয়ার – কানুনগো ঠিকমতো তাদের সঠিক কাজ করতে দেন না। ঔ সব সৎ সার্ভেয়ারদের । দুর্নীতিবাজদের কথামত কাজ না করলে তাদেরকে পড়তে হয় বিভিন্ন ঝামেলায় । শুধু ঝামেলাই নয় হয়রানির শিকার হতে হয় পদে পদে । জনস্বার্থে ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সরকার ঢাকা জেলা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৌজায় ভূমি অধিগ্রহ করে থাকেন বিভিন্ন প্রকল্প ,রাস্তা-ঘাট সহ উন্নয়নমূলক কাজের জন্য। বর্তমান বিধান অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বর্তমান বাজার মূল্যের তিনগুণ টাকা পরিশোধ করেন সরকার। অধিগ্রহনকৃত জমির ক্ষতিপূরণ এর এই টাকা পেতে হলে জমির মালিকগণ ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সংক্ষেপে এল এ শাখায় জমির মালিকানা কাগজপত্র জমা দেন ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার জন্য এরপর এল এ শাখা জমির কাগজপত্র যাচাই পূর্বক জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। টাকা ছাড়া এই দপ্তরের ফাইল উপরে উঠে না । এই ব্যাপারে এল এ শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল এ)এর বক্তব্য জানার জন্য তার ফোনে বারবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি ।
সুন্দর গঠনমূলক সংবাদ আকারের চাই
