নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের নামে হঠাৎ একটি নতুন কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত এই কমিটি নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির বর্তমান (রানিং) কমিটির নেতারা।
রানিং কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, চলচ্চিত্র পরিচালক হোসাইন আনোয়ারের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে কেন্দ্রীয় জাসাস কমিটির সদস্য তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (সায়মন তারিক) বলেন,
“আমাদের এখনো একটি কার্যকর কমিটি বিদ্যমান। সেই কমিটিকে বাদ দিয়ে নতুন করে কমিটি ঘোষণা করা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। কোনো সভা বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই এ ধরনের কমিটি কীভাবে গঠিত হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন খবর দেখে আমরা নিজেরাই হতবাক হয়ে গেছি। এই কমিটির সঙ্গে কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে—সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। এমনকি চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত কাউকেও সেখানে আমরা দেখতে পাইনি।”রানিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মহারাজ বলেন,
“বিষয়টি আমি সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু অনলাইন মাধ্যমে দেখেছি। এতে বিস্মিত হয়েছি ঠিকই, তবে বিচলিত নই। যারা এই কমিটি গঠন করেছে, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তারা দীর্ঘ সময়েও কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিল না।”
তিনি দাবি করেন, চলচ্চিত্র অঙ্গনে সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে সায়মন তারিক, সাজেদুর রহমান সাজু, হানিফ রেজা মিলন, নজরুল ইসলাম, পাংখা মনির, উজ্জ্বল ও আবুল কালাম আজাদসহ আরও অনেকে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। উল্লেখ্য, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সিরাজ সাইদারের মৃত্যুর পর সিনিয়র সহ-সভাপতি হোসাইন আনোয়ার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরপর থেকে আর কোনো নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। বিদ্যমান কমিটিই দীর্ঘদিন ধরে বিএফডিসিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
হঠাৎ করে নতুন কমিটি ঘোষণাকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে বর্তমান নেতারা জানান, তারা খুব শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবেন।
তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল ফিতর-এর পর একটি পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য নতুন কমিটি গঠন করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের প্রকৃত চিত্র সবার সামনে তুলে ধরা হবে।
