ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ রেলওয়ের একতা, রংপুর, সুন্দরবন ও জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিস সংক্রান্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চারটি ট্রেনের সার্ভিস বরাদ্দকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে এবং এতে দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন এডিজি (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল […]
ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদন:
বাংলাদেশ রেলওয়ের একতা, রংপুর, সুন্দরবন ও জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিস সংক্রান্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চারটি ট্রেনের সার্ভিস বরাদ্দকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে এবং এতে দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন এডিজি (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম এবং চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) সুজিত কুমার বিশ্বাস। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সরকার নির্ধারিত দরের নিচে দর প্রস্তাব করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা দরপত্র নীতিমালার পরিপন্থী।
অংশগ্রহণকারী এক দরদাতা জানান, সংশ্লিষ্ট চারটি প্যাকেজে নির্ধারিত বেতন, ২% কনটিনজেন্সি এবং ২০% ভ্যাট-ট্যাক্স বিবেচনায় নিয়েও সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্যাকেজ ৮ (একতা) ও প্যাকেজ ৯ (রংপুর)-এর জন্য ৮৪৩,৮৭,৩৭৯ টাকা এবং প্যাকেজ ১০ (সুন্দরবন) ও প্যাকেজ ১১ (জাহানাবাদ)-এর জন্য ৮৩৩,২১,২৫০ টাকা নির্ধারিত হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, একাধিক প্রতিষ্ঠান এসব নির্ধারিত দরের চেয়েও কম দর প্রস্তাব করেছে, যা বাস্তবসম্মত নয় এবং বিধিমালা অনুযায়ী বাতিলযোগ্য। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দাবি, এ ধরনের দর গ্রহণ করা হলে তা দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়া প্রভাবিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে হাবিব বাণিজ্য বিতানকে দুইটি ট্রেন, শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজকে একটি ট্রেন এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী শাহ আলমের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানকে একটি ট্রেন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া, গাণিতিক ত্রুটির ব্যাখ্যার নামে দরপত্রের BOQ (Bill of Quantities) পুনর্নির্ধারণ করে কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, কিছু প্রতিষ্ঠান ২% কনটিনজেন্সি, মালামালের মূল্য, লভ্যাংশ এবং ২০% ভ্যাট-ট্যাক্স উল্লেখ না করেই দর প্রস্তাব করলেও তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়মবহির্ভূত।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান Bengala Five Star Security Services Ltd. আরও দাবি করেছে, পূর্বাঞ্চলেও একই ধরনের প্রক্রিয়ায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিস একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদান করা হয়েছে, যা আইনের ব্যত্যয় হতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এডিজি (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিস্তারিত পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, সুজিত কুমার বিশ্বাসের কাছে এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো জবাব মেলেনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।