এ, এইচ ,এম, ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী:
আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে কাস্পিয়ান সাগর ঘিরে রহস্যময় জাহাজ চলাচল। বিশ্বের বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত নোনা জলের এই জলাধারে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে ইরান ও রাশিয়া-এর বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজ Automatic Identification System (AIS) বন্ধ করে কাস্পিয়ান সাগরে চলাচল করছে। এই ‘ডার্ক শিপিং’ পদ্ধতি সাধারণত ব্যবহৃত হয় গোপন বাণিজ্য, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো কিংবা সংবেদনশীল পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এই পথেই কি গোপনে সামরিক সরঞ্জাম পাচার করা হচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাস্পিয়ান সাগরের ভৌগোলিক অবস্থান এই ধরনের কার্যক্রমের জন্য অনুকূল। কারণ, এটি সম্পূর্ণভাবে পাঁচটি দেশের নিয়ন্ত্রণে এবং বাইরের কোনো শক্তির সরাসরি নজরদারি এখানে সীমিত। ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের তুলনায় এখানে গোপন অপারেশন চালানো তুলনামূলক সহজ।
পশ্চিমা বিশ্লেষণে ইঙ্গিত করা হয়েছে, এই গোপন জাহাজ চলাচলের সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সম্ভাব্য অস্ত্র ভান্ডার বৃদ্ধির যোগ থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়া থেকে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি বা যন্ত্রাংশ এই পথেই ইরানে পৌঁছাতে পারে।
ইরান–রাশিয়া সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরান ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ার অভিযোগ বহুবার উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে কাস্পিয়ান রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।
তবে এখনো পর্যন্ত এসব দাবির পক্ষে সরাসরি ও নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। অধিকাংশ তথ্যই গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, স্যাটেলাইট ডেটা এবং জাহাজ চলাচলের অসঙ্গতি থেকে অনুমান করা।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে কাস্পিয়ান সাগর ভবিষ্যতে ইরান–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ গোপন করিডর হয়ে উঠতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই-অপেক্ষায় রয়েছে।
