ঢাকা
০৫ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ
ভূঞাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা গোপালপুরে কাবিটার রাস্তার ইট তুলে বাড়িতে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ ইউপি সদস্য দম্পতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ     গোপালপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সিলেটের স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টারের বিরুদ্ধে ভূল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ পানির অভাবে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন, দিশেহারা হাজারো কৃষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোস্টেশন বন্ধ আজ নবম পে–স্কেল উপেক্ষা করে সচিবালয় কর্মচারীদের ২০% ভাতা—বৈষম্যের অভিযোগে মাঠ পর্যায়ে ক্ষোভ মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীরা।
Advertise with us

দুর্নীতির সম্রাট শ্রীনগর উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদারের কোটি কোটি টাকার সম্পদের উৎস কি ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬   ১১০ বার পঠিত
দুর্নীতির সম্রাট শ্রীনগর উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদারের কোটি কোটি টাকার সম্পদের উৎস কি ?

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->

ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন -১
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার নাম জুয়েল শিকদার । সরকারি চাকুরীর সুবাদে আজ তিনি কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক। তবে তার এই সম্পদের উৎস কি এই নিয়ে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মহলে চলছে নানান কানাঘুষা । এদিকে অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে জুয়েল সিকদার ঘুষ- দুর্নীতি নানান অনিয়ম, অপকর্ম করে তিনি আজ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় জুয়েল শিকদারের রয়েছে একাধিক ফ্লাট , বাড়ি ,দোকান এছাড়া নিজের এলাকায় ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমি তার পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়দের নামে রয়েছেন অনুসন্ধানে জানা গেছে। তার হঠাৎ বৃত্ত বৈভবের এমন উত্থানে সমাজে হঠাৎ উত্থান হওয়া আবেদ আলীদের গল্পকেও হার মানায় । আমাদের সমাজে হঠাৎ কোটি কোটি টাকাও বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া জুয়েল শিকদার
এ এক নতুন আবেদ আলী র গল্প । জুয়েল শিকদারের চাকুরী জীবন শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন । এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে । চাকুরিতে যোগদানের আগে একজন সাধারন কৃষকের পরিবার সন্তান জুয়েল সাদামাটা জীবনযাপন করলেও হঠাৎ বদলে গেছেন জুয়েলের জীবন চিত্র , তিনি আজ দামী গাড়ি হাঁকেন আলিশান ফ্ল্যাটে থাকেন। তার পরিবারের সদস্যরা চলাফেরা করে রাজকীয় ভাবে । যে লোকটির পরিবার কর্তা এ সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করেও পরিবারের সদস্যদের মুখে দুমুঠো অন্য যোগান দিতে পিতা রিয়াজ উদ্দিন সিকদার বিষণ্ণতায় থাকতেন। সেখানে আজ আলাদিনের চেরাগ জুয়েল শিকদারের এর পরিবারের হাতে,,।

আরো জানা গেছে কালের পরিক্রমায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে বদলী প্রক্রিয়াকে কলেকৌশলে বন্ধ করে একই স্থানে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের CA পদকে সু চতুর জুয়েল শিকদার একচেটিয়া বহাল থেকে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের জাদুকরী চেয়ার তৈরি করেন।
বিভিন্ন তদবির, বিভিন্ন কৌশলে ডিসি , এডিসি, এল এ ও রাজস্ব শাখার কর্তা ব্যক্তিদের ভৌতিক মন্ত্র দিয়ে বড় অঙ্কের ফাইল স্বাক্ষর করে নেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। ১৫ বছরে সু চতুর জুয়েল শিকদার পঞ্চাশ কোটি টাকার উপরে মালিক হন।
আইনি প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য সম্পদ করেছেন স্ত্রী, ভগ্নিপতি, শ্বশুর ও আত্মীয়-স্বজনের নামে ও বেনামে। অনুসন্ধানে বিভিন্ন লোকজনের সাথে আলাপকালে এমন তথ্য ও নথিপত্র ঘেঁটে দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গেছে সরকারি এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিরুদ্ধে। এদিকে অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদারের অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে ! কি নেই জুয়েল শিকদারের রাজধানী
ঢাকার কোনাপাড়া দরবার শরীফ রোডে ৬ কাঠা জমির উপর তিন তলা একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর নামে ডেমরার পাড় ডগাইর মাজার রোডে ৫ কাঠার একটি প্লট রয়েছে যার বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। ডেমরা এলাকার শামসুল হক স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ২৪০০ স্কয়ার ফিট করে (২) দুইটি ফ্লাট রয়েছে যার বাজার মূল্য কোটি টাকা। স্ত্রীর নামে আছে আরও পাঁচ কাঠা জমির উপরে দ্বিতীয় তলা বিল্ডিং ২০২৩ সালে ৯৫ লক্ষ টাকায় ক্রয় করেন।
মুন্সিগঞ্জ শহরের আদালত পাড়ায় ৬০ লক্ষ টাকার মূল্যের ফ্ল্যাট ক্রয় করার তথ্য পাওয়া গেছে।
গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নে হোগলাকান্দি মৌজায় ৩০ শতাংশ জমি যার মূল্য ৩৫ লক্ষ টাকা. হোগলাকান্দি কবরস্থানের সংলগ্ন ৪৫ শতাংশ জমি যার মূল্য ৭০ লক্ষ টাকা, চর আশুতো মৌজায় ১০৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তার ভগ্নিপতি হাবিবের নামে ক্রয় করেন যাহার বাজার মূল্য এক কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।
কুমিল্লার মেঘনা থানায় কুমিল্লা ইকোনমিক জোনে ৭ বিঘা সরকারি খাস সম্পত্তি নিয়ম বহির্ভূত ভাবে প্রভাব খাটিয়ে বন্দোবস্ত এনে মেঘনা গ্রুপ অব কোম্পানির নিকট ৮ কোটি টাকা বিক্রি করেন সিকদার জুয়েল স্থানীয় এক চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ।

স্ত্রী ও সন্তানদের নামে করেছেন একাধিক ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট। ছোট বোনের পরিচয় গোপন করে চাকুরী দেন ভূমি অফিসে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন লোকজনকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরি দেয়ার কথা বলে একাধিক লোকের কাছ মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে চাকুরি দেয়ার নামে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে ।

অবৈধ ঘুষ বাণিজ্যের অর্থ দিয়ে নিজ এলাকা হোগলাকান্দি শিকদার বাড়ি মাদ্রাসা মসজিদে একাধিকবার নগদ অর্থ ও নির্মাণ সামগ্রী দান করেন জুয়েল শিকদার ইদানিং দানবীরের উপাধি পেয়েছেন এলাকায় এমনটি জানালেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিজের অস্তিত্ব ও প্রধান অতিথির পদ বাগিয়ে নিতে লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে নিজেকে প্রিন্স জুয়েল নামে আখ্যায়িত করতে কার্পণ্য করেননি ঘুষ দুর্নীতিতে হস্ত সরকারের এই কর্মচারী । এলাকাবাসীর দাবি একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়ে অল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হলো কোন আলাদিনের চেরাগের বদৌলতে । এদিকে মুন্সিগঞ্জ শ্রীনগর উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদারের নানান অনিয়ম দুর্নীতি অপকর্ম ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান তিনি কোন দুর্নীতি অনিয়মের সাথে জড়িত নন বলে জানান। অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর না দিয়ে ফোন রেখে দেন ‌। এরপর এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদককে তার এলাকার স্থানীয় এক সাংবাদিক ফোন দেন । ঘুষ-দুর্নীতি অবৈধ সম্পদের অভিযোগ উঠা জুয়েল শিকদার কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মহল।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us