ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: ক্ষতিপূরণ দাবি ঘিরে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত
ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদন: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা শর্তের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ দাবি মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। এর পেছনে বেশ কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। চলমান […]
২ মিনিটে পড়ুন |
ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদন:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা শর্তের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ দাবি মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
এর পেছনে বেশ কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। চলমান সামরিক ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই চাপ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইতোমধ্যে ব্যয়বহুল সামরিক নীতির কারণে দেশে সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে রয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে সরাসরি করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ দেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
এছাড়া, যুদ্ধ পরিচালনার পর একই সঙ্গে পুনর্গঠনে অর্থায়ন করা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক ধরনের পরাজয়ের স্বীকারোক্তি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। ফলে ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবিটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরান ইতোমধ্যে Strait of Hormuz দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেমন কোনো প্রকাশ্য আপত্তি না আসায় বিশ্লেষকরা এটিকে একটি কৌশলগত নীরবতা হিসেবে দেখছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সরাসরি ক্ষতিপূরণ না দিয়ে, এই টোল ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানকে পরোক্ষভাবে অর্থ পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে পারে। এতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দায় এড়াতে পারবে, অন্যদিকে উপসাগরীয় তেলনির্ভর দেশগুলোকে পরোক্ষভাবে এই ব্যয় বহনে বাধ্য করা সম্ভব হবে।
এ ধরনের কৌশল বাস্তবায়িত হলে, তা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর—যেমন বাংলাদেশ। টোল বাবদ প্রতি ব্যারেল তেলের খরচ বাড়লে, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে জ্বালানি বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি যেদিকেই গড়াক না কেন, এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে বৈশ্বিক ভোক্তাদেরই।