এইচএম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী -প্রধান প্রতিবেদক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলেও, শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে টানটান আলোচনা চললেও […]
এইচএম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী -প্রধান প্রতিবেদক।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলেও, শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে টানটান আলোচনা চললেও উভয় পক্ষ তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা জেডি ভ্যান্স বৈঠক শেষে বলেন, ইরান তাদের প্রস্তাবে সম্মত হয়নি এবং এই ব্যর্থতার দায় ইরানেরই। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের “অযৌক্তিক ও একতরফা শর্ত” আলোচনায় অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূলত তিনটি বড় ইস্যুতে মতবিরোধের কারণে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান। ওয়াশিংটন চায় ইরান সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ত্যাগ করুক, যা তেহরান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রেইট অব হরমুজ-এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহন করে।
তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার ও সামরিক উপস্থিতি নিয়েও দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। ইরান আঞ্চলিক বিষয়ে অধিক স্বাধীনতা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র সেখানে কঠোর নিরাপত্তা শর্ত আরোপ করতে চায়।
এদিকে, আলোচনার ব্যর্থতায় আগেই ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আবার আলোচনায় বসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যর্থতা দুই দেশের মধ্যে গভীর আস্থাহীনতার প্রতিফলন। তারা মনে করছেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা থাকলেও তা দীর্ঘ ও জটিল হবে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই ব্যর্থ বৈঠক বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার আলোচনার টেবিলে ফিরবে, নাকি পরিস্থিতি আরও সংঘাতের দিকে এগোবে।