[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

অপরাধ
৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ১১ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরে সাড়ে চার কোটির সেতু, পাঁচ বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক—ভোগান্তিতে দুই পাড়ের মানুষ

মোঃ মনিরুজ্জামান, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও কালিয়াকৈর উপজেলার সীমান্তঘেঁষে বয়ে যাওয়া তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি সেতু পাঁচ বছর পার হলেও কার্যকর হয়নি। সেতুর এক পাশে এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় কোটি টাকার এই অবকাঠামো কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে […]

গাজীপুরে সাড়ে চার কোটির সেতু, পাঁচ বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক—ভোগান্তিতে দুই পাড়ের মানুষ
৩ মিনিটে পড়ুন |
মোঃ মনিরুজ্জামান, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও কালিয়াকৈর উপজেলার সীমান্তঘেঁষে বয়ে যাওয়া তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি সেতু পাঁচ বছর পার হলেও কার্যকর হয়নি। সেতুর এক পাশে এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় কোটি টাকার এই অবকাঠামো কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নদীর দুই তীরের হাজারো মানুষ।
তুরাগ নদীর দুই তীরজুড়ে গড়ে উঠেছে ঘনবসতিপূর্ণ একাধিক গ্রাম এবং পুরনো ঐতিহ্যবাহী বাজার সাকাশ্বর। আশপাশের অন্তত ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং বিভিন্ন কাজে এই বাজারে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা, যা স্থানীয়দের জন্য ছিল কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ।
এই দুর্ভোগ লাঘবে কয়েক বছর আগে তুরাগ নদীর ওপর সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিল, সেতুটি চালু হলে তাদের যাতায়াত সহজ হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরের মাস্টারবাড়ি–খালিশাবর্তা–সাকাশ্বর সড়কের তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মন্ত্রী সামসুল হক সেতু’। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই মাটি ফেলে ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী পথ তৈরি করে কোনোভাবে সেতুতে ওঠানামা করছেন।
সেতুর দুই প্রান্তে ওঠানামার পথ অত্যন্ত খাড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের চলাচল বিশেষভাবে দুরূহ হয়ে উঠেছে। অনেক সময় অন্যের সহায়তা ছাড়া সেতুতে ওঠা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে সেতুর আশপাশের পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে এবং তখন দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে তারা একটি নিরাপদ সেতুর স্বপ্ন দেখেছেন। এক বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, “কত আশা আছিল মরার আগে ব্রিজটা দেইখা যামু। ব্রিজ তো দেখলাম, কিন্তু রাস্তা দেখার ভাগ্য হয়তো আর হইব না।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আগে নৌকা দিয়ে পারাপার করতাম, তাতেও খুব সমস্যা ছিল না। এখন ব্রিজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাস্তা না থাকায় কোনো সুবিধাই পাচ্ছি না—বরং ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে সেতুটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে এবং নদীর দুই তীরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা করছেন।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল বাছেদ জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভূমি অধিগ্রহণসহ কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।”
Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com