হাফিজুর রহমান: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর এলো পর্যটক ও যাত্রীদের জন্য। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রেলপথ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগি। চলাচলের এক বছর পর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় আনবে নতুন মাত্রা। এতদিন এই রুটে চলাচলরত সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে এসি সুবিধা না থাকায় অনেক যাত্রীই স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণ থেকে […]
হাফিজুর রহমান:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর এলো পর্যটক ও যাত্রীদের জন্য। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রেলপথ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগি। চলাচলের এক বছর পর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় আনবে নতুন মাত্রা।
এতদিন এই রুটে চলাচলরত সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে এসি সুবিধা না থাকায় অনেক যাত্রীই স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। বিশেষ করে দূরপাল্লার পর্যটকদের জন্য বিষয়টি ছিল বড় একটি সীমাবদ্ধতা। অবশেষে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক কোচ ও এসি বগি সংযোজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, এই রুটের আন্তনগর ট্রেনগুলোর মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। নতুন সংযোজনে প্রতিটি ট্রেনে থাকবে এসি কেবিন, স্নিগ্ধা চেয়ার এবং উন্নত আসন ব্যবস্থা—যা যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক ও উপভোগ্য করে তুলবে।
জানা গেছে, বর্তমানে ব্যবহৃত পুরোনো বগিগুলোর পরিবর্তে আধুনিক কোচ বসানো হবে, যার ফলে ট্রেনের সামগ্রিক মান ও সেবার গুণগত পরিবর্তন আসবে। প্রায় সাড়ে সাতশ যাত্রীর আসনসংবলিত এই নতুন বিন্যাস রেল ভ্রমণে স্বস্তি ও গতি দুটোই নিশ্চিত করবে।
এই উদ্যোগ শুধু যাত্রীসেবার মানোন্নয়নই নয়, বরং দেশের পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজারমুখী পর্যটকদের জন্য আরামদায়ক ট্রেন ভ্রমণ নতুন করে আকর্ষণ তৈরি করবে।
তবে যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো মনে করছে, শুধু এসি বগি সংযোজনই যথেষ্ট নয়—সময়নিষ্ঠতা, টিকিট ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সেবার মান উন্নয়নও সমানভাবে জরুরি।
সবকিছু ঠিকঠাক বাস্তবায়ন হলে, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আধুনিক ও জনপ্রিয় ভ্রমণ রুট—যেখানে স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য মিলবে একসাথে।