ভােরের বাংলাদেশ”
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক পুনর্বিন্যাস শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য ইরান অভিযান নিয়ে ওয়াশিংটনের কড়া ভাষার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরানও পাল্টা বার্তা দিচ্ছে- যুদ্ধ হলে আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোই হবে প্রথম লক্ষ্য।
ইরান সম্প্রতি যে উন্মোচন করেছে, তার পাল্লা প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার বলে দাবি করা হয়। একই পাল্লার আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
এতে স্পষ্ট- পারস্য উপসাগর ঘিরে থাকা প্রায় সব মার্কিন ঘাঁটিই এই পাল্লার ভেতরে পড়ে। ইরানের দাবি অনুযায়ী আরও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে তাদের হাতে, যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক- এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮টি স্থায়ী ঘাঁটি।বর্তমানে অঞ্চলটিতে আনুমানিক ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। দেশভিত্তিক উপস্থিতি নিম্নরূপ:
কাতার
মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি, এখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা রয়েছে। এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কৌশলগত সদরদপ্তর।
বাহরাইন
প্রায় ৯ হাজার সেনা অবস্থান করছে। এখানেই মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি।
কুয়েত
ক্যাম্প আরিফজান, আলি আল-সালেম ও ক্যাম্প বুহরিংসহ বিভিন্ন ঘাঁটিতে মোট প্রায় ১৩,৫০০ সেনা রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
প্রায় ৩,৫০০ সেনা। গোয়েন্দা নজরদারি ও আকাশ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সৌদি আরব
প্রায় ২,৭০০ সেনা। রাজধানীর কাছে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতার মূল কেন্দ্র।
জর্ডান
আজরাকে অবস্থিত প্রায় ৩,৮০০ সেনা। ইরান থেকে দূরত্ব প্রায় ১,৫০০ কিমি- অর্থাৎ ঘোষিত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র পাল্লার সীমান্তে।
ইরাক
প্রায় ২,৫০০ সেনা। আনবার প্রদেশের অতীতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল।
সিরিয়া
প্রায় ২,০০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে। স্থলঘাঁটির পাশাপাশি সমুদ্রেও উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে। প্রায় ৫,৬৮০ ক্রুসহ এই রণতরীর স্ট্রাইক গ্রুপে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার রয়েছে। আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এছাড়া গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার সেন্টকম এলাকায় যুক্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে-
যুদ্ধবিমান
রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার
নজরদারি বিমান
গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্ম
ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার জেট
এছাড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি আনার প্রস্তুতির কথাও জানা গেছে, যা ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ব্যবহৃত হতে পারে। ভৌগোলিক মানচিত্র বলছে- পারস্য উপসাগর ঘিরে থাকা প্রায় সব মার্কিন ঘাঁটিই ইরানের ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী, স্টিলথ ফাইটার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির মতো যথেষ্ট শক্তি বহন করে।
অর্থাৎ পরিস্থিতি এখন ‘পারস্পরিক প্রতিরোধের ভারসাম্যে’ দাঁড়িয়ে আছে। যে পক্ষ আগে আঘাত হানবে, তাকে পাল্টা আঘাতের ঝুঁকিও বহন করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক বিন্যাস ইঙ্গিত দিচ্ছে- যুদ্ধ হলে তা হবে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বহুমাত্রিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
