[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ
৬:২০ অপরাহ্ণ, ৯ মে ২০২৬

নাগরপুর-চৌহালী সড়ক: অবহেলা, অদক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নির্মম প্রতিচ্ছবি

  মোঃ আবদুল মান্নান বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বড় বড় গল্প প্রায়ই সরকারি প্রচারণায় উঠে আসে। মেগাপ্রকল্প, এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, টানেল—এসব উন্নয়নের চমকপ্রদ বর্ণনায় দেশকে যেন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে—যে রাষ্ট্র তার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ন্যূনতম নিরাপদ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না, সেই […]

নাগরপুর-চৌহালী সড়ক: অবহেলা, অদক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নির্মম প্রতিচ্ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মিনিটে পড়ুন |

 

মোঃ আবদুল মান্নান

বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বড় বড় গল্প প্রায়ই সরকারি প্রচারণায় উঠে আসে। মেগাপ্রকল্প, এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, টানেল—এসব উন্নয়নের চমকপ্রদ বর্ণনায় দেশকে যেন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে—যে রাষ্ট্র তার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ন্যূনতম নিরাপদ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না, সেই উন্নয়নের আসল মানদণ্ড কী? টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটির দিকে তাকালেই এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। নাগরপুর বটতলা থেকে বন্যার মোড় হয়ে চৌহালী পর্যন্ত সড়কটি আজ শুধুমাত্র একটি ভাঙাচোরা রাস্তা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, প্রশাসনিক উদাসীনতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বহীনতার এক জীবন্ত দলিল। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর ধরে এর ভয়াবহ অবস্থা সংশ্লিষ্টদের বিবেককে নাড়া দিতে পারেনি। জনগণ যেন এখানে নাগরিক নয়, অবহেলিত কোনো প্রান্তিক জনপদের অসহায় বাসিন্দা—যাদের কষ্ট রাষ্ট্রের উন্নয়ন-গল্পে স্থান পায় না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সড়কের দুরবস্থা নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ অভিযোগ জানাচ্ছে, মানববন্ধন করছে, সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে, জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে—কিন্তু কার্যকর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রশ্ন হলো, কেন? একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক বছরের পর বছর এভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে থাকবে, অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিরা নির্বিকার থাকবে—এটি কেবল অবহেলা নয়, এটি দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতা। নাগরপুর ও চৌহালীর হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে জীবন বাজি রেখে চলাচল করেন। শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে আতঙ্ক নিয়ে, কৃষক পণ্য নিয়ে বাজারে যাচ্ছে অনিশ্চয়তা নিয়ে, রোগীবাহী যান হাসপাতালে যাচ্ছে মৃত্যুভয় নিয়ে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও রাস্তার পিচ উঠে গেছে, কোথাও পানি জমে তৈরি হয়েছে মরণফাঁদ। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়ক যেন ছোট ছোট খালে পরিণত হয়। অথচ এই সড়ক দিয়েই নিয়মিত চলাচল করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাহলে কি তারা এসব দেখেন না? নাকি দেখেও না দেখার ভান করেন? জনগণের অভিযোগ আরও গভীর। স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেও এই অঞ্চলের উন্নয়ন ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব থাকায় এই অঞ্চলে উন্নয়ন বরাদ্দ ও কার্যকর কাজের ক্ষেত্রে অনীহা দেখানো হয়েছে—এমন অভিযোগ বহু মানুষের মুখে শোনা যায়। যদি সত্যিই রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে উন্নয়ন বৈষম্য করা হয়ে থাকে, তবে তা শুধু অনৈতিক নয়, সাংবিধানিকভাবেও অগ্রহণযোগ্য। রাষ্ট্র কোনো দলের সম্পত্তি নয়। রাস্তা, সেতু, শিক্ষা, চিকিৎসা—এসব জনগণের অধিকার। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় বিবেচনা বা রাজনৈতিক প্রতিশোধের স্থান থাকতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা প্রায়ই ভিন্ন কথা বলে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়ন অগ্রাধিকারের তালিকাও বদলে যায়। কোনো এলাকা শাসকদলের ঘাঁটি হলে সেখানে উন্নয়ন দ্রুত হয়, আর বিরোধী প্রভাব থাকলে সেখানে অবহেলা বাড়ে—এমন অভিযোগ নতুন নয়। নাগরপুর-চৌহালী সড়কের দুরবস্থা সেই পুরোনো অভিযোগকেই নতুন করে সামনে এনেছে। এটি কেবল একটি রাস্তার সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের প্রশ্ন। এখানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), উপজেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কঠোরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—সড়কটির দায়িত্ব কোন সংস্থার, সেটিই অনেক সাধারণ মানুষ স্পষ্টভাবে জানেন না। কখনো এলজিইডি, কখনো সওজ, কখনো স্থানীয় প্রশাসন—দায় যেন সবাই এড়িয়ে যেতে চায়। অথচ জনগণের দুর্ভোগ কিন্তু থেমে নেই। দায়িত্ব নির্ধারণে এই সমন্বয়হীনতা এবং দায় এড়ানোর সংস্কৃতি বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর এক গভীর অসুখকে সামনে আনে। মাঝেমধ্যে সংস্কারের নামে কিছু কাজ হয় বটে, কিন্তু তা এতটাই নিম্নমানের এবং দায়সারা যে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে জনগণের মনে প্রশ্ন জাগে—সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় যায়? নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, ঠিকাদারি অনিয়ম, দুর্নীতি এবং তদারকির অভাব কি এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য দায়ী নয়? যদি কাজ সঠিকভাবে হয়, তাহলে একটি রাস্তা বারবার এত দ্রুত নষ্ট হয় কীভাবে? বাংলাদেশে উন্নয়ন খাতে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। প্রায়ই দেখা যায়, প্রকল্পের বরাদ্দ বড় হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন খুব কম। রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট, নিম্নমানের কাজ, কমিশন বাণিজ্য এবং তদারকির অভাব যেন এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। ফলে জনগণের টাকায় নির্মিত রাস্তা জনগণের জন্য নিরাপত্তা নয়, বরং দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নাগরপুর-চৌহালী সড়কের বাস্তবতা তারই নির্মম উদাহরণ। এই সড়কে প্রতিদিন ঘটে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। মোটরসাইকেল উল্টে আহত হচ্ছেন তরুণরা, অটোরিকশা খাদে পড়ে আহত হচ্ছেন নারী ও শিশু, রোগীবাহী যান আটকে গিয়ে সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে রোগীর অবস্থা। প্রশ্ন হচ্ছে—এই দুর্ঘটনাগুলোর দায় কে নেবে? শুধু চালকের ভুল বলে দায় এড়িয়ে যাওয়া কি যথেষ্ট? একটি ভাঙাচোরা, গর্তে ভরা রাস্তা নিজেই তো একটি সক্রিয় মৃত্যুফাঁদ। সবচেয়ে করুণ বাস্তবতা হলো, জনগণ যেন এই দুর্ভোগের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করাকে তারা জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিচ্ছে। কারণ বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কী হতে পারে? এই সড়কের কারণে স্থানীয় অর্থনীতিও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ছে। কৃষক সময়মতো পণ্য বাজারে নিতে পারছেন না। পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। যানবাহনের যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছেন। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে কষ্ট হচ্ছে। গর্ভবতী নারী ও গুরুতর রোগীরা সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। অর্থাৎ একটি রাস্তার দুরবস্থা পুরো অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। অথচ উন্নয়ন অর্থনীতির অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা। যেখানে রাস্তা ভালো, সেখানে ব্যবসা বাড়ে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সহজ হয়, বিনিয়োগ আসে, জীবনমান উন্নত হয়। আর যেখানে রাস্তা ভেঙে পড়ে, সেখানে উন্নয়নও থেমে যায়। নাগরপুর ও চৌহালীর মানুষের সঙ্গে ঠিক সেটাই ঘটছে। এখানে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও কঠোর সমালোচনার দাবি রাখে। নির্বাচন এলে মানুষকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। রাস্তা হবে, সেতু হবে, এলাকার উন্নয়ন হবে—এমন অসংখ্য প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। কিন্তু নির্বাচনের পর জনগণের সেই আশা ধীরে ধীরে হতাশায় পরিণত হয়। জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশ তখন দলীয় রাজনীতি, ক্ষমতার হিসাব, ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা আত্মপ্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। জনগণের মৌলিক সমস্যা তখন অগ্রাধিকার হারায়। নাগরপুর-চৌহালী সড়কের অবস্থা দেখে মনে হয়, এই অঞ্চলের মানুষের ভোট হয়তো প্রয়োজন, কিন্তু তাদের নিরাপদ জীবন প্রয়োজন নয়। যদি প্রয়োজন হতো, তাহলে বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ চলতে পারত না। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন কম নয়। উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা কি কখনো সরেজমিনে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ উপলব্ধি করেছেন? নাকি ফাইলের রিপোর্ট আর অফিসের কাগজেই সব সীমাবদ্ধ? বাস্তবতা হলো, মাঠপর্যায়ের সমস্যাকে গুরুত্ব না দিলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না। বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর একটি বড় সমস্যা হলো জবাবদিহিতার অভাব। একটি রাস্তা ভেঙে গেলে বা দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেলে খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি জবাবদিহির মুখোমুখি হন। ফলে অবহেলা যেন স্বাভাবিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কেউ দায় নেয় না, কেউ পদত্যাগ করে না, কেউ শাস্তি পায় না। আর জনগণ বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে থাকে। এখন সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে কেন্দ্র করে এই সড়কে মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। বাড়ি ফেরা মানুষ, পশুবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। অথচ এখনো কার্যকর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই সড়ক ঈদযাত্রায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে—প্রতিবার দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশ আর দায়সারা বক্তব্য দিয়েই কি দায়িত্ব শেষ? কেন দুর্ঘটনার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না? কেন মানুষের জীবনকে এত সস্তা মনে করা হয়? রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবন সহজ করে। কিন্তু যদি উন্নয়নের গল্প কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক হয় আর গ্রামীণ জনপদগুলো অবহেলার অন্ধকারে পড়ে থাকে, তাহলে সেই উন্নয়ন বৈষম্যই বাড়ায়। নাগরপুর-চৌহালী সড়কের বাস্তবতা সেই বৈষম্যের নগ্ন উদাহরণ। এখন প্রয়োজন জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ। প্রথমত, দ্রুত জরুরি সংস্কার করে সড়কটিকে চলাচলের উপযোগী করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় টেকসই ও মানসম্মত সড়ক নির্মাণ করতে হবে। তৃতীয়ত, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। চতুর্থত, উন্নয়নকাজে স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, কোন সংস্থা এই সড়কের দায়িত্বে—তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। জনগণের উন্নয়নকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে না পারলে এ ধরনের সমস্যা কখনো স্থায়ীভাবে সমাধান হবে না। উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়; এটি নাগরিক অধিকার। নাগরপুর ও চৌহালীর মানুষ বিলাসিতা চায় না। তারা শুধু নিরাপদে চলাচল করতে চায়। তারা চায় না প্রতিদিন মৃত্যুভয় নিয়ে রাস্তায় নামতে। তারা চায় না রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে উন্নয়নবঞ্চিত থাকতে। তারা শুধু চায় রাষ্ট্র তাদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিক। আজ সময় এসেছে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার। কারণ একটি রাস্তার অবহেলা মানে শুধু যোগাযোগব্যবস্থার অবনতি নয়; এটি মানুষের জীবন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করা। নাগরপুর-চৌহালী সড়ক আর কতদিন অবহেলার প্রতীক হয়ে থাকবে—এই প্রশ্ন আজ শুধু দুই উপজেলার মানুষের নয়; এটি গোটা দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যবস্থার প্রতি এক কঠিন প্রশ্নচিহ্ন। জনগণ এখন আর শুধু আশ্বাস শুনতে চায় না। তারা বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। কারণ মানুষের ধৈর্যেরও একটি সীমা আছে।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com