দেওয়ান সামান উদ্দিন .কালিয়াকৈর –গাজীপুর । গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের দরবাড়ীয়া থেকে জাশুকা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিন উপজেলার হাজারো মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বছরের পর বছর কাঁচা ও খানাখন্দে ভরা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানান, […]
দেওয়ান সামান উদ্দিন .কালিয়াকৈর –গাজীপুর ।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের দরবাড়ীয়া থেকে জাশুকা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিন উপজেলার হাজারো মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বছরের পর বছর কাঁচা ও খানাখন্দে ভরা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি কালিয়াকৈর, ধামড়াই ও সাভার এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ। বিশেষ করে চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলে বিকল্প সড়ক হিসেবে দরবাড়ীয়া-জাশুকা সড়ক ব্যবহার করেন বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হয়। তখন রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। আবার শুষ্ক মৌসুমে পুরো রাস্তা ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ধুলাবালির কারণে স্থানীয়দের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বহুবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন করে বাজারে নিতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সড়ক খারাপ থাকায় পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং সময়মতো বাজারে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দরবাড়ীয়া এলাকার কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, “আমরা কষ্ট করে ফসল ফলাই, কিন্তু রাস্তার কারণে ঠিকমতো বাজারে নিতে পারি না। বৃষ্টির সময় গাড়ি ঢুকতে চায় না। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হয়।”
শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজ ও কর্মস্থলে যাতায়াতে সময় নষ্ট হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ করা হলে তিন উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন সুবিধা বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের যানজট কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ।