[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

অপরাধ
১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, ১৪ জুন ২০২৬

বিউবো’র উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ মোতালেবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় ! গড়েছেন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য !

ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:‌‌ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন – ১ ———————————————-   বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)’র তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের উপ -পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ মোতালেব (পরিচিতি নম্বর ২০২৫৮) এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতি নানান অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পাহাড় গড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।   এদিকে জানা গেছে সরকারি এই কর্মকর্তা বিদ্যুৎ […]

বিউবো’র উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ মোতালেবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় ! গড়েছেন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য !
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:‌‌

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন – ১

———————————————-

 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)’র তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের উপ -পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ মোতালেব (পরিচিতি নম্বর ২০২৫৮) এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতি নানান অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পাহাড় গড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এদিকে জানা গেছে সরকারি এই কর্মকর্তা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের এক বিশাল সাম্রাজ্য। এর সাথে অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজের নামে কিছু না করলেও স্ত্রী ,শ্বশুর ও আত্মীয় স্বজন নামে করেছেন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ। বিউবো’র উপ-পরিচালক (প্রশাসন ) মোঃ মোতালেব এর বিপুল সম্পদের ফিস্তি দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। কি নেই এই সরকারি কর্মকর্তার আছে দামি মডেলের গাড়ি , আলিশান একাধিক ফ্লাট, বহুতলা ভবনের বাড়ি ও বিঘা বিঘা জমি । চাকুরির মাত্র কয়েক বছরের মাথায় ঘুষ- দুর্নীতি নানান অনিয়ম , অপকর্মের মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ থেকে হয়েছে বটগাছ ।

 

অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে রাজধানীর ঢাকার শনি আখড়া ও অভিজাত এলাকায় ইতিমধ্যে চারটি আলিশান ফ্লাট ক্রয় করেছেন স্ত্রীর নামে , যাহার বাজার মূল্য ছয় কোটি টাকার উপরে। এছাড়া গ্রামের বাড়ি গজারিয়ার ভবের চরের লক্ষীপুর এলাকায় ৩০ শতক জমির উপর বাহিরে – ভিতরে টাইলস করা কয়েক কোটি টাকা খরচ করে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি করেছেন । এছাড়া গজারিয়া থানা এলাকার বিভিন্ন মৌজায় সম্প্রতি ও বিগত কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ১০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন স্ত্রী, শ্বশুর ও আত্মীয় স্বজনের নামে এই জমির বর্তমান বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয় ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের দামি মডেলের গাড়ি পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য । মোঃ মোতালেব এর বাবা আব্দুল মতিন মাস্টারকে ভবের চর এলাকায় মানুষ একজন আদর্শবান সৎ শিক্ষক হিসাবে জানলেও ছেলে হয়েছে বাবার উল্টো । পিতার আদর্শের ধারে কাছেও নেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা । এইতো মাত্র কয়েকদিন আগের কথা যে লোকটির পরিবার অভাব-অনটনে এক সময় সংসার চালাতে কষ্টসাধ্য ছিল সেই মোঃ মোতালেব এর পরিবারটির হঠাৎ বৃত্ত বৈভবের এমন উত্থানে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মহল বিস্মিত! এলাকার লোকজনের মধ্যে চলছে নানান কানাঘুষা কি এমন গুপ্তধন পেল মোঃ মোতালেব যার বদৌলতে তিনি এখন পাহাড় সমান সম্পদের মালিক ? তবে কোন গুপ্ত ধন নয় বিউবো’র উক্ত উপ-পরিচালক ঘুষ-দুর্নীতি নানান অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্য‌সহ বিউবোতে নানান অপকর্ম করে তিনি আজ কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক।

 

অন্যদিকে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রে অনুসন্ধানে জানা গেছে নিজের পদোন্নতি জন্য কয়েক কোটি টাকার কন্টাকে আবদ্ধ হয়েছেন উপরস্থ একটি মহলের সাথে। এর সাথে প্রশাসনিক ও বদলি বাণিজ্যের মূল হোতা হিসেবে মোতালেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে । তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের বদলি এবং পদায়নের ক্ষেত্রে তিনি বিশাল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করতেন তার উপরস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে। এছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ রয়েছে তার ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই অবৈধ অর্থ তিনি নিজের স্ত্রী ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের নামে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। দেশের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, দামি গাড়ি এবং গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। এমনকি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য রয়েছে । অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে বিউবো’র তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের উপ- পরিচালক (প্রশাসন ) হিসেবে তাঁর নিজেরই স্বচ্ছ থাকার কথা থাকলেও তিনি বিউবো’র নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেন না। সাধারণ কর্মচারীদের কোনো ছোটখাটো ত্রুটির জন্য কঠোর শাস্তির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা এবং পছন্দের ব্যক্তিদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া তাঁর দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে।

 

বিউবো’র একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী জানান তদন্ত শৃঙ্খলা ও তলবের নামে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অনেকে।বোর্ডের তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ বা দূরবর্তী স্থানে শাস্তিমূলক বদলি করে হয়রানি করা হতো এমন কথা বলেন উক্ত দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা – কর্মচারী । এদিকে বিভিন্ন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি বিউবো’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বসে এ ধরনের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বিদ্যুৎ খাতের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। সচেতন মহল ও বিউবো ‘র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে উপ পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ মোতালেবের অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপ পরিচালক (প্রশাসন) তদন্ত শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের মোঃ মোতালেব এর সাথে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের করা হলে তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। শুধু বলেন তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সত্য নয় তার কোন সম্পদ নাই বলে ফোন কেটে দেন। এরপর কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি

 

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

সর্বশেষ