ঢাকা
০১ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ
কালিয়াকৈর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে তিতাস গ্যাসের অভিযান, ৪ জনকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ইংলিশ অলিম্পিকে এশিয়া মহাদেশে প্রথম হওয়া কৃতি শিক্ষার্থী তাজকে সংবর্ধনা । টানা বর্ষণে দুর্যোগের শঙ্কা, আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে রাঙ্গামাটি জেলা জামায়াত ভূঞাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা গোপালপুরে কাবিটার রাস্তার ইট তুলে বাড়িতে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ ইউপি সদস্য দম্পতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ     গোপালপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সিলেটের স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টারের বিরুদ্ধে ভূল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ পানির অভাবে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন, দিশেহারা হাজারো কৃষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোস্টেশন বন্ধ আজ নবম পে–স্কেল উপেক্ষা করে সচিবালয় কর্মচারীদের ২০% ভাতা—বৈষম্যের অভিযোগে মাঠ পর্যায়ে ক্ষোভ মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীরা।
Advertise with us

গজারিয়ায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬   ৬৩ বার পঠিত
গজারিয়ায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে অর্থ লোপাট, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিয়োগ, অব্যাহতি প্রাপ্ত নৈশ্ প্রহরী আক্তারের স্বাক্ষর জাল করে বেতন আত্মসাৎ, সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাতের টাকা দুর্নীতি ও তছরুপ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিদ্যালয়টির মান উন্নয়নে ২৭/০৩/২০১৬ তারিখে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডঃ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান সরকারের গুলশান কার্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও নৈশ প্রহরী নিয়োগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা অনুরাগী সভাপতির অক্লান্ত পরিশ্রম ও আর্থিক সহযোগিতায় শিক্ষক, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীদের আগামীর ভবিষ্যৎ সুগম হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় ০৭/০৮/২০১৬ তারিখে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পেয়ে, শিক্ষক নিয়োগ , ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি, এসএসসি , জে এস সি (অষ্টম শ্রেণী) ফরম ফিলাপ, সনদপত্র প্রদান, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন নামে আর্থিক অনিয়ম সূচনায় কামাল হোসেন সাঈদীর দুর্নীতির দুয়ার খুলে যায়।

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত ৩১/১১/২০২৪ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে ৫৪ ৭৯ নং স্বারকে ও জেলা প্রশাসক মুন্সিগঞ্জ অভিযোগ দায়ের করেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।

২০/০৮/২০২৪ তারিখে সরকার পরিবর্তন ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর আক্তারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, ব্যবস্থাপনা কমিটি । অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন কে দায়িত্ব দেন। তবে এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত বিদ্যালয় টি ১৯৯০ সালে এমপিও ভুক্ত মাধ্যমে হাজী মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়। জমি দাতা ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ শিক্ষকমন্ডলীদের তত্ত্বাবধানে সুনামের সহিত জ্ঞান চর্চায় এগিয়ে চলে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান কামাল হোসেন সাঈদী। অনুসন্ধানে জানা যায় ০২/০৯/১৯৯৫ সালের কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার চরগোয়ালী খন্দকার নাজির আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সরজমিনে পূর্বের কর্মস্থলের বিভিন্ন অসঙ্গতি ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়।

অনুসন্ধান জানা যায় সহকারি লাইব্রেরিয়ান (জনাবা রিমি- ইনডেক্স নং -১১১৩০১৯) তথ্য গোপন করে জাল সনদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ায় MPO স্থগিত করণ এবং বিষয়টি জেনেও সরকারি অর্থ উত্তোলনে তাকে সহযোগিতা করায় প্রতিষ্ঠান প্রধান কামাল হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে পত্র প্রদান করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের ডিসেম্বর/২০১৯ মাসের বেতন বিল উপস্থিতিতে নিম্ন সাক্ষরকারী জনাব রিমির সার্টিফিকেট যথাযথ নয় মন্তব্য করার পরও প্রতিষ্ঠান প্রধান বিদ্যালয়ের সভাপতি কে এতদ সংক্রান্ত কোনো বিষয় অবহিত না করে পূর্বের মতো ডিসেম্বর/২০১৯ মাসের বেতন ভাতা দিয়ে উত্তোলন করেন।

অনুসন্ধান ও তথ্যে আরো জানা যায় গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এম এল এস এস (নৈশ প্রহরী) আক্তার (ইনডেক্স নং ১০৫৩ ৭৬৮) ০৫/০৮/২০১০ সালে বিদ্যালয়ে যোগদান করে। শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে ১-৩-২০১৬ সালে দায়িত্বরত পদ থেকে ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট অব্যাহতি পত্র জমা দেন। পদত্যাগ পত্রটি ১-৩ ২০১৬ ইং তারিখে ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট গৃহীত হয়। এবং নৈশ প্রহরীর পদটি শুন্য ঘোষণা করা হয়।
গত ২৭-৩-২০১৬ ইং তারিখে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডঃ আব্দুল মান্নান সরকারের গুলশান কার্যালয়ে সভায় কো-অপ্ট সদস্য পদ পূরণ ও নৈশ প্রহরী পদ নিয়োগে সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে গৃহীত হয়।

প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন সাঈদী নৈশ্য প্রহরীর পদে নিয়োগ না দিয়ে মার্চ/২০১৬ মাস হইতে পূর্বের নৈশ্য প্রহরী আক্তারের স্বাক্ষর জাল করে MPO School সিটে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৯৯৪২ টাকা হারে অন্যান্য ভাতা সহকারে ব্যবস্থাপনা কমিটি ডঃ আব্দুল মান্নান সরকারের স্বাক্ষরে উত্তোলন করেন।

অর্থ অনিয়মে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরে আরো জানা যায় বেসরকারি কেজি স্কুলের এসএসসি ২০২৩ সালের পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ বাবদ ৩ লক্ষ ৪২ হাজার ১০০ টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসেবে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন । এই অর্থ অদ্যবধি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে হস্তান্তর করেননি এমনটি জানা যায় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ( টিয়ার- কাবিখা ২০২২-২০২৩) আওতায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যের বরাদ্দের অর্থ(১,৫০,০০০) বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ব্যবহার না করে নিজের পকেটে রেখে দেন।
গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন টিন সেট ভবনটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে নিজের মনগড়া কমিটি করে পছন্দের শুভাকাঙ্ক্ষী নিকট বিক্রয় করে এই অর্থ নিজের কাছে রেখে দেন।

গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন সাঈদী (২০/০৮/২০২৪)তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর আক্তারের নির্বাহী আদেশ অমান্য করে ২ লক্ষ টাকা সোনালী ব্যাংক (গজারিয়া শাখা) থেকে উত্তোলন করে ।১৯/০৯/২০২৪ তারিখ পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন ভাতা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেওয়ায় নির্বাহী আদেশ অমান্য করে অর্থ উত্তোলন করায়, কারণ দর্শনের নোটিশ প্রেরন করে উপজেলা প্রশাসন।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের কারণে জেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষা উক্ত বিদ্যালয়ে না নিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডঃ আব্দুল মান্নান সাহেবের শাহ শের আলী সিএনজি পাম্প ও রেস্টুরেন্টে বালুয়াকান্দি (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন) অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালীন গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন ও জেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতিনিধি গণমাধ্যম কর্মীদের মেনেজ করতে না পারায় পরীক্ষা স্থগিত করে চলে যান। এ বিষয়ে একাধিক পত্র-পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারিত হয়।

এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান আমি নতুন এসেছি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা।

অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন সংশ্লিষ্টরা

প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন সাঈদী ভোরের বাংলাদেশ-কে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ভালোভাবে অবগত আছেন।”
এদিকে, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবসা নাদিয়া বলেন, “তার বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তা আমার কাছে পাঠান। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa