ঢাকা
২৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
ভূঞাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা গোপালপুরে কাবিটার রাস্তার ইট তুলে বাড়িতে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ ইউপি সদস্য দম্পতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ     গোপালপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সিলেটের স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টারের বিরুদ্ধে ভূল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ পানির অভাবে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন, দিশেহারা হাজারো কৃষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোস্টেশন বন্ধ আজ নবম পে–স্কেল উপেক্ষা করে সচিবালয় কর্মচারীদের ২০% ভাতা—বৈষম্যের অভিযোগে মাঠ পর্যায়ে ক্ষোভ মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীরা।
Advertise with us

গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘নকল নবীশ’ গিয়াসের দাপটের অভিযোগ: ৫% কমিশন না দিলে হয়রানির দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬   ৩৭ বার পঠিত
গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘নকল নবীশ’ গিয়াসের দাপটের অভিযোগ: ৫% কমিশন না দিলে হয়রানির দাবি

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->

ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:
রাজধানীর তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের অধীন গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক নকল নবীশকে ঘিরে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি ফি ছাড়াও প্রতিটি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কমিশন দিতে বাধ্য করা হয়। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন অজুহাতে দলিলের ত্রুটি দেখিয়ে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দলিল নিবন্ধন হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গিয়াস উদ্দিন নামে এক নকল নবীশ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অফিসের কার্যক্রমে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক দলিল লেখক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও গিয়াস উদ্দিনের নির্ধারিত কমিশন না দিলে অকারণে ফাইল আটকে রাখা হয়। পরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কাজ শেষ করতে হয়।”
অভিযোগ রয়েছে, কমিশনের হার অনেক সময় ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত গড়ায়। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতা, জমির ক্রেতা-বিক্রেতা এবং দলিল লেখকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে গিয়াস উদ্দিনের ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযোগ জমা পড়লেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে একদিকে যেমন সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে সরকারি নিবন্ধন সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us