ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সদ্য অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান জিন্নাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন উপজেলার একদল শিক্ষক। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, গোপালপুর উপজেলা শাখার পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ জুন টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঁচ দফা অভিযোগ সম্বলিত একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে উপজেলার আটজন শিক্ষক স্বাক্ষর করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় প্রচলিত নীতিমালা উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। প্রধান শিক্ষকদের প্রশ্ন প্রণয়নের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র বিতরণের নামে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১২ টাকা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ আদায় করে তা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৪৬টি বিদ্যালয় কেন্দ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ অর্থ প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে ব্যয় করতে না দিয়ে সিসি ক্যামেরা কেনার কথা বলে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়া ২০২৬ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ইউনিয়ন পর্যায়ের বরাদ্দ অর্থ অস্বচ্ছভাবে ব্যয়, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিচালনার বরাদ্দ থেকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের প্রাপ্য সম্মানী কম প্রদান, জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ এবং স্বাক্ষর জাল করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে ইউনিয়ন পর্যায়ের জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার ২০০ টাকা বিতরণ না করে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রায়ই শিক্ষকদের ব্যক্তিগতভাবে কটাক্ষ, অপমান ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলতেন, যা শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করেছে।
অভিযোগকারীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান জিন্নাহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।