ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে কোনো পূর্বঘোষিত সরকারি নোটিশ, লিখিত নির্দেশনা বা প্রকাশিত এজেন্ডা ছাড়াই উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ডেকে সমাবেশ করার অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ, ওই সমাবেশে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে এবং প্রতিবাদে অংশ নিতে বিভিন্ন প্রধান শিক্ষকের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
একাধিক প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের কার্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উপস্থিত থাকতে মৌখিকভাবে বলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এটি শিক্ষা কার্যক্রম বা প্রশাসনিক কোনো পূর্বনির্ধারিত সভা ছিল না; বরং শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর পক্ষে সমর্থন আদায় এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিক নেয়ামুল হক নয়নের বিরুদ্ধে অবস্থান তৈরির উদ্দেশ্যেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান করায় কয়েকটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শ্রেণি কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়।
এ বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
গজারিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান বিপুল জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর সালাম তাঁকে ফোন করে সভায় অংশ নিতে বলেন। তবে কোনো এজেন্ডা না থাকায় তিনি সভায় যাননি। অথচ পরে উপস্থিতির তালিকায় তাঁর নাম কীভাবে এসেছে, তা তিনি জানেন না।
হোসেন্দী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খবিরুল আলম বলেন, আব্দুর সালাম এবং পোড়াচক বাউশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হানিফ মিয়া তাঁকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু কোনো এজেন্ডা না থাকায় তিনি সভায় অংশ নেবেন না বলে জানিয়ে দেন।
ভবেরচর ওয়াজের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফফার বলেন, সভার কোনো বিশেষ এজেন্ডা ছিল না। শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ মিয়া তাঁকে ফোনে জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যেতে বলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সভায় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
শহীদ নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহমেদ জানান, সভায় তিনি উপস্থিতদের বলেন যে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদটি সাংবাদিক নেয়ামুল হক নয়ন করেননি এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান।
পাঁচগাঁও বসুরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও জানান, সভার কোনো অফিসিয়াল এজেন্ডা ছিল না।
ভাটেরচর দেওয়ান আব্দুল মান্নান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাজাহান সিকদার বলেন, অতীতে তাঁকে বিনা কারণে দীর্ঘ সময় সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়েছিল। বর্তমানে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে গভীর রাতে ফোন করা হলেও কোনো এজেন্ডা না থাকায় তিনি সভায় যাননি।
অভিযোগ রয়েছে, সভা শেষে উপজেলা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয় এবং তাঁর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বক্তব্য জানতে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। সভার উদ্দেশ্য, সরকারি এজেন্ডা, প্রধান শিক্ষকদের উপস্থিতির যৌক্তিকতা এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সরকারি কোনো সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণত লিখিত নির্দেশনা, নির্ধারিত এজেন্ডা এবং প্রশাসনিক উদ্দেশ্য থাকে। এসব ছাড়া সরকারি কার্যালয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সমবেত করা হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।
এদিকে, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ব্যবহার করে সংগঠিতভাবে অবস্থান তৈরির চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে উপরে উল্লেখিত অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সকল বিষয় অস্বীকার করেন ।