ভােরের বাংলাদেশ”
ইরানে শুরু হয়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ ও দমনপীড়নের পর বড় পরিসরে আবারও বিক্ষোভে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানের শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভকারীদের মিছিলের ফুটেজ যাচাই করেছে। পরে সেখানে বিক্ষোভকারী ও সরকার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে, তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়েছে এবং উত্তর-পূর্বে একটি সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। এসময় জানুয়ারিতে গণ-বিক্ষোভে নিহত হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে সম্মান জানিয়ে সমাবেশ করছিল তারা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে। এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সীমিত সামরিক হামলার কথা তিনি বিবেচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সন্দেহ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে আবারও অগ্রসর হচ্ছে। তবে ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ অবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক চাপ আর সামরিক তৎপরতার মুখে তেহরান মাথা নত করবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান। এসময় তিনি বলেন, কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না।
সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভে হাজারো মৃত্যুর জন্য আবারও ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছে ইরান সরকার বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ৩ হাজারের বেশি নিহতের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০ জনই নিরাপত্তা সদস্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রয়োজনে ইরানে সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছে তারা।
এরমধ্যেই, কাতারের আল উদেইদ মার্কিন বিমান ঘাঁটি থেকে শত শত মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নিচ্ছে পেন্টাগন। ইরানের পাল্টা হামলা থেকে বাঁচতেই এমন পদক্ষেপ বলে ধারণা করছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
