গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার লেনদেন ও ভাগবণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মো. আমিনুল ইসলাম (২৭) নামে ভ‚মি অফিসের সরকারি কর্মচারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে দায়ী করে যান। নিহত আমিনুল উপজেলার সৈয়দপুর হাদিরা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী ছিলেন এবং […]
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার লেনদেন ও ভাগবণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মো. আমিনুল ইসলাম (২৭) নামে ভ‚মি অফিসের সরকারি কর্মচারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে দায়ী করে যান।
নিহত আমিনুল উপজেলার সৈয়দপুর হাদিরা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী ছিলেন এবং চাতুটিয়া গ্রামের আজিজুর রহমান ভোলার ছেলে।
ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, গোপালপুর অগ্রণী ব্যাংকের অফিসার সাদেক আরমান তাকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত করেন। একপর্যায়ে সাদেক আরমান তার কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ধার নেন। পরে সেই টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলেও স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের বাবা ভোলা জানান, অনলাইনে বাজি খেলতে গিয়ে তার ছেলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে ধার দেওয়া টাকাও ফেরত পাচ্ছিলেন না। পাওনাদারদের চাপের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
তিনি আরও জানান, বুধবার রাতে বাড়ির রান্নাঘরের ধর্নার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন আমিনুল। তার তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী তিন মাসের গর্ভবতী।
পিতার দাবি, পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ার হতাশা থেকেই তার ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।
অপরদিকে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সাদেক আরমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে নেওয়া সব টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়েছে। ফেসবুকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অগ্রণী ব্যাংক গোপালপুর শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান সোলায়মান কবীর জানান, সাদেক আরমান বৃহস্পতিবার ব্যাংকে আসেননি। তিনি হয়তো ছুটিতে রয়েছেন।
গোপালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মো. নবাব আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ছবির ক্যাপশন- নিহত মো. আমিনুল ইসলাম