[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ
৭:১২ অপরাহ্ণ, ২২ জুন ২০২৬

মেঘালয়ের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢল: জাফলংয়ে তছনছ শতাধিক দোকান, পানিবন্দী নিম্নাঞ্চলের মানুষ

  নিজস্ব সংবাদদাতা, গোয়াইনঘাট: ভারতের মেঘালয় রাজ্যে টানা ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পিয়াইন নদীর পানি হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকার কয়েকশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকানপাট লণ্ডভণ্ড করে দেয়। প্রবল স্রোতে বিপুল পরিমাণ […]

মেঘালয়ের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢল: জাফলংয়ে তছনছ শতাধিক দোকান, পানিবন্দী নিম্নাঞ্চলের মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোয়াইনঘাট:

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে টানা ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পিয়াইন নদীর পানি হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকার কয়েকশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকানপাট লণ্ডভণ্ড করে দেয়। প্রবল স্রোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল ভেসে যাওয়ায় এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বহু ব্যবসায়ী।

 

স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার রাতে মেঘালয়ের বিভিন্ন এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের পর গভীর রাতে পিয়াইন নদীতে আকস্মিকভাবে পানির স্তর বাড়তে শুরু করে। ঢলের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অধিকাংশ ব্যবসায়ী মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি। কেউ দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরেছিলেন, আবার কেউ দোকানেই ঘুমিয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে নদীর স্রোত দোকানপাট ভেঙে নিয়ে যায় এবং মূল্যবান মালামাল পানিতে ভেসে যায়।

 

পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নতুন পণ্য সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু এক রাতের এই দুর্যোগ তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন কেড়ে নিয়েছে। বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

 

জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন,

গভীর রাতে পাহাড়ি ঢলের কারণে কয়েকশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ সর্বস্ব হারিয়েছেন। প্রতি বছরই আমাদের এমন ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও জরুরি আর্থিক সহায়তা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

 

তিনি আরও বলেন, জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের সিঁড়ির নিচ থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী শেড বা দোকানঘর নির্মাণ করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা না হলে পর্যটননির্ভর এই অর্থনীতি বারবার একই ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

 

এদিকে শুধু জাফলং পর্যটনকেন্দ্রই নয়, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তত তিনটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাওরাঞ্চলের বহু পরিবার ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিয়াইন নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পিয়াইন নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রশাসন খবর পেয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ

গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

সর্বশেষ