ঢাকা
২৭ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
ভূঞাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা গোপালপুরে কাবিটার রাস্তার ইট তুলে বাড়িতে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ ইউপি সদস্য দম্পতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ     গোপালপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সিলেটের স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টারের বিরুদ্ধে ভূল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ পানির অভাবে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন, দিশেহারা হাজারো কৃষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোস্টেশন বন্ধ আজ নবম পে–স্কেল উপেক্ষা করে সচিবালয় কর্মচারীদের ২০% ভাতা—বৈষম্যের অভিযোগে মাঠ পর্যায়ে ক্ষোভ মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীরা।
Advertise with us

দুর্নীতির মহারাজা সহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন ! ৩৫ টি প্রকল্পের ১৩ কোটি টাকা অনিয়ম, অর্থ আত্মসাত

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬   ৯৪ বার পঠিত
দুর্নীতির  মহারাজা সহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন  ! ৩৫ টি প্রকল্পের ১৩ কোটি টাকা অনিয়ম, অর্থ আত্মসাত

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->

ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:

মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রায় ৩৫ টি প্রকল্পে ১৩ কোটি টাকার কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত অভিযোগের তীর এখন সহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেনের দিকে। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে
মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি,অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াই বিল উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসলাম শেখ ও সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন ও তার আশপাশের কয়েকজনকে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কাজ না করে পুকুর চুরি করেছে বলে জানা গেছে । অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে জানা গেছে জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারি বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অনুসরণ করা হয়েছে তাদের খেয়াল খুশি মত এতেই বুঝা যায় আবুল হোসেন গং অর্থ আত্মসাৎ এর পথ সুগম করতে দুর্নীতির পন্থা অবলম্বনের মধ্য দিয়ে এই এসব করেছেন । অনেক ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই কাজ দেখানো, একই প্রকল্প একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ উত্তোলন, বাস্তবায়ন না হওয়া প্রকল্পের বিপরীতে বিল পরিশোধ দেখানো এবং সরঞ্জাম ক্রয়ে অতিরিক্ত মূল্য প্রদর্শনের মতো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে এই প্রকল্প গুলোতে।

আরো জানা যায়, জেলা পরিষদ কোয়ার্টারে পানির রিজার্ভ ট্যাংক নির্মাণ, কোয়ার্টার ও মার্কেট সংস্কার, জেলা পরিষদ কার্যালয়ের নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য কক্ষ নির্মাণ, সভাকক্ষ সংলগ্ন ওয়াশ রুম নির্মাণ, বিভিন্ন মার্কেটের সংস্কার ও রংকরণ, ডাকবাংলা সংস্কার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রকল্প দিকে চোখ বুলালে দেখা যাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন গং লুটপাট করেছে কোটি কোটি টাকা। তাদের এই লুটপাটের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট ভবন নির্মাণে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। একইভাবে সভাকক্ষ সংলগ্ন ওয়াশরুম নির্মাণ, মুক্তারপুর, ধলাগাঁও ও টঙ্গীবাড়ী মার্কেট সংস্কার প্রকল্পেও দৃশ্যমান কাজের তুলনায় বিল উত্তোলনের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এছাড়া জেলা পরিষদের জন্য কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার এবং ডিজিটাল ফটোকপিয়ার মেশিন ক্রয়ে বাজার দরের চেয়ে অনেক গুন বেশি মূল্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ডাকবাংলার জন্য আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, বিছানাপত্র ও ক্রোকারিজ ক্রয়ের প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট মালামালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

গজারিয়া, শ্রীনগর, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান ও লৌহজং উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন একাধিক অবকাঠামো প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে অডিটোরিয়াম সংস্কার, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, রাস্তা আরসিসিকরণ, গাইডওয়াল নির্মাণ, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং বিভিন্ন মার্কেটের উন্নয়ন কাজ। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের অনেকগুলো বাস্তবায়ন হয়নি কিংবা আংশিক কাজ সম্পন্ন করে সম্পূর্ণ বিল উত্তোলন করা হয়েছে। যার সাথে জড়িত রয়েছে মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রকৌশল দপ্তর ও অন্যান্য কর্মকর্তা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, কয়েকটি প্রকল্পের নাম সরকারি নথিতে থাকলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। আবার কিছু প্রকল্পে দুই থেকে পাঁচ বছর ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হলেও সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে আবুল হোসেন চক্র , ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদে কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকল্প বণ্টন, বিল অনুমোদন এবং ঠিকাদারি কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে অনুসন্ধানে প্রকল্পের নথিপত্র ঘেঁটে দুর্নীতির এমন চিত্র পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং সরকারি চাকুরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। সহকারি প্রকৌশলী আবুল হোসেন মিয়া সরকারি চাকুরির সুবাধে ঘুষ, দুর্নীতি নানার অনিয়ম, অপকর্ম করে কোটি কোটি টাকা। ও বিপুল বৃত্ত-বৈভব এর মালিক । রাজধানী ঢাকায় রয়েছে তার একাধিক ফ্লাট, দামি মডেলের গাড়ি, দোকান ও কয়েক কোটি টাকা মূল্যের কয়েক জমি, নামে বেনাম বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স। তবে এসব সম্পদ সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম নিজের নামে করেনি করেছেন স্ত্রী, শ্বশুর বাড়ির লোকজন আত্মীয়-স্বজনের নামে ।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন । অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে সেগুলো সঠিক নয়। এই বিষয়ে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে উল্লেখিত বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us