[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

অর্থনীতি
১২:১৪ অপরাহ্ণ, ১৩ জুন ২০২৬

নৌ-পরিবহন খাত রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা জাহাজ মালিকদের

হাফিজুর রহমান: দেশের শিল্প, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি নৌ-পরিবহন খাতকে সংকট থেকে রক্ষায় জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ জাহাজ মালিকরা। শুক্রবার এক লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বহিঃনোঙ্গর থেকে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও গুদামে পণ্য পরিবহনে লাইটার জাহাজ […]

নৌ-পরিবহন খাত রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা জাহাজ মালিকদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

হাফিজুর রহমান: দেশের শিল্প, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি নৌ-পরিবহন খাতকে সংকট থেকে রক্ষায় জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ জাহাজ মালিকরা।

শুক্রবার এক লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বহিঃনোঙ্গর থেকে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও গুদামে পণ্য পরিবহনে লাইটার জাহাজ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যশস্য, কয়লা, সার, ক্লিংকারসহ বিভিন্ন কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা এই খাতের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।

এদিকে, একই দিন সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ জাহাজ মালিকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন থেকে তারা নৌ-পরিবহন খাতের চলমান সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেন।

জাহাজ মালিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নৌ-পরিবহন নীতিমালা-২০২৪ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া, এক সিরিয়ালে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত না করা, ডেমারেজ কার্যকর না থাকা, অবৈধ প্রভাব বিস্তার, ঘাট বার্থিংয়ের নামে চাঁদাবাজি, নৌ-ডাকাতি এবং নিয়ন্ত্রণহীন চার্টার বাণিজ্যের কারণে খাতটি ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়েছে। ফলে অসংখ্য জাহাজ মালিক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে তাদের জাহাজ বিক্রি বা স্ক্র্যাপ করেছেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এক কেজি গম পরিবহনে জাহাজ মালিকরা মাত্র ৫৫ পয়সা ভাড়া পান, অথচ বাজারে সেই গম বিক্রি হয় প্রায় ৫৫ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে জ্বালানি তেল, যন্ত্রাংশ, শ্রমিক মজুরি, ব্যাংক সুদ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও জাহাজ ভাড়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করা হয়নি।

জাহাজ মালিকদের দাবি, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের শিল্প উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নৌ-শ্রমিকদের কর্মসংস্থান মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় তারা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (BWTCC)-এর বকেয়া ও চলমান ডেমারেজ দ্রুত পরিশোধ, নৌ-নীতিমালা-২০২৪-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, এক সিরিয়ালে জাহাজ চলাচল নিশ্চিতকরণ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাড়া নির্ধারণ, অবৈধ বার্থিং ও চাঁদাবাজি বন্ধ, নৌ-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং BWTCC-এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জাতীয় অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

সর্বশেষ