ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
রাঙামাটি প্রতিনিধি: মো নাজিম আলী
রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে মাদকাসক্ত এক যুবককে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার মা-বাবার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ দুপুরে আসামবস্তি এলাকার জনৈক সিরাজ সওদাগরের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিবুল ইসলাম (২৫) পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। তিনি রফিকুল ইসলাম ও রাখাই ইসলামের দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে।
পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, সাকিবুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিকিৎসা করানো হয় এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়। কয়েক মাস আগে তাকে পুনর্বাসনে পাঠাতে তার বাবা প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করেন। তবে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও তিনি পুনরায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মাদকাসক্তির কারণে সাকিবুলের আচরণে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিল। মাদক সেবন ও কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হতো। থানা ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। কিছুদিন আগে মাদকসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন এবং জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার দুপুরে সাকিবুলের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে তীব্র বাগ্বিতণ্ডায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার মা ধারালো দা দিয়ে ঘাড়ে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ হাসান জানান, ঘাড়ে গুরুতর কাটা জখম নিয়ে সাকিবুলকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়াই মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ বলে তিনি জানান।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে। মরদেহের সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ছেলেকে মাদকাসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে বাবা-মা দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে সাকিবুলের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার প্রকৃত দায় কার, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।