ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
হাফিজুর রহমান:
দেশের আমসহ বিভিন্ন সতেজ কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অত্যাধুনিক বাষ্পতাপ (ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট) প্লান্ট উদ্বোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের এই প্লান্ট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহামে রফিকুল ইসলাম । প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার উৎপাদনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে।
তিনি বলেন, দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ টন আম উৎপাদিত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিমাণ এখনও প্রত্যাশিত নয়। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে রপ্তানি বাড়ানোর বিকল্প নেই। নতুন এই ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আমসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করবে।
মন্ত্রী জানান, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে আম ও অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এসব দেশে রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রিটমেন্ট ও স্বাস্থ্যসম্মত প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক। নতুন প্লান্ট সেই শর্ত পূরণ করবে এবং আমদানিকারক দেশগুলোর আস্থা আরও বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, এই প্লান্টে শুধু আম নয়, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা, টমেটো, আলু, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ট্রিটমেন্ট ও রপ্তানি করা যাবে। এর ফলে কৃষিপণ্যের বহুমুখী রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
রপ্তানিকারকদের সুবিধার্থে প্লান্টে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর ঘোষণা দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, একই স্থানে পণ্য ধোয়া, ট্রিটমেন্ট, প্যাকেজিং ও কোয়ারেন্টাইন সনদ প্রদান করা হবে। এতে সময় ও ব্যয় কমবে, পাশাপাশি রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
তিনি জানান, বিমানবন্দরে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং কার্গো ভাড়া কমানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে কয়েক হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে ন্যায্যমূল্য পান এবং সারা বছর ভোক্তারা স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য কিনতে পারেন।
রপ্তানিকারকদের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম ধরে রাখতে পণ্যের গুণগত মান ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব, বিএডিসির চেয়ারম্যান, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, রপ্তানিকারক, কৃষি উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।