[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

অপরাধ
৫:৫১ অপরাহ্ণ, ১ এপ্রিল ২০২৬

কালিয়াকৈরে এলপিজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য — কৃত্রিম সংকটে আকাশছোঁয়া দাম, জনদুর্ভোগ চরমে

মোঃ মনিরুজ্জামান, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এলপিজি গ্যাসকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, একটি অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছে। জানা যায়, ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে বেসরকারি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) […]

কালিয়াকৈরে এলপিজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য — কৃত্রিম সংকটে আকাশছোঁয়া দাম, জনদুর্ভোগ চরমে
২ মিনিটে পড়ুন |

মোঃ মনিরুজ্জামান, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এলপিজি গ্যাসকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, একটি অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছে।

জানা যায়, ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে বেসরকারি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) নির্ধারণ করে ১,৩৪১ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন এলাকায় এই গ্যাস ১,৯০০ থেকে ২,১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসের শুরুতে গ্যাসের মূল্য পুনঃনির্ধারণের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরির কৌশল নেয়। তারা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে গুদাম তালাবদ্ধ রেখে আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে বাজারে হঠাৎ করেই গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেয়।

এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু খুচরা বিক্রেতা অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে। কালিয়াকৈর বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাশেমসহ কয়েকজন জানান, আগে তারা ১,৩৪১ টাকার গ্যাস ১,৫৫০ টাকায় কিনে ১,৬০০ টাকায় বিক্রি করতেন। কিন্তু বর্তমানে ডিলারদের কাছ থেকে প্রতি সিলিন্ডার ১,৯৫০ টাকা পর্যন্ত কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের ক্ষোভও তীব্র। বলিয়াদি এলাকার আলম হোসেন, সুত্রাপুরের আসমা, কালিয়াকৈর গ্রামের সাদেক ও ইমান আলী জানান, তারা বাধ্য হয়ে প্রায় ২,০০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনেছেন। একইভাবে পালপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলী ও চাপাইর গ্রামের হারাধন অভিযোগ করেন, ১,৬০০ টাকার গ্যাস তাদের ২,১০০ টাকায় কিনতে হয়েছে।

যমুনা এলপিজির ডিলার ওয়াসিমের গুদামের ম্যানেজার বলেন, এর আগে ১৪৫০ টাকা ডিউ কেটেছিলাম। আজকে ১৮৫০ টাকা ডিউ কেটে দিয়ে আসলাম। আমাদের গোডাউনে যত বোতল আছে সব খালি। আমরা সর্বক্ষণ মার্কেটে মাল দিচ্ছি গোডাউনের সামনে কয়েকটা গাড়িতে মাল লোড করা আছে এগুলো মার্কেটে চলে যাবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক ডিলার বিপ্লবসহ কয়েকজন বলেন, তাদের গুদামে কোনো গ্যাস নেই, তাই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিপ্লবের ও ওয়াসিমের গুদামের সামনে ট্রাকভর্তি এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে, যা এই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম ফকরুল হোসাইন জানান, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, দ্রুত বাজার তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

Facebook Comments Box
×
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com