ভোরের বাংলাদেশ ডেস্ক রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ বাণিজ্য, দালালি, জাল দলিল ও অনিয়মের নানা অভিযোগে আলোচিত। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা শুধু ঘুষ ও দুর্নীতিই নয়—চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত। সংশ্লিষ্ট নথি, মামলা, ভিডিও […]
ভোরের বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ বাণিজ্য, দালালি, জাল দলিল ও অনিয়মের নানা অভিযোগে আলোচিত। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা শুধু ঘুষ ও দুর্নীতিই নয়—চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত।
সংশ্লিষ্ট নথি, মামলা, ভিডিও ফুটেজ ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অফিসের ভেতরেই সক্রিয় রয়েছে দালাল ও দলিল বাণিজ্যের একটি প্রভাবশালী চক্র। দলিল পাশ, নকল উত্তোলন, ফাইল নড়াচড়া থেকে শুরু করে যেকোনো প্রশাসনিক কাজ—সবকিছুতেই চলছে ঘুষের হিসাব।
চাঁদাবাজির মামলায় বহুজন অভিযুক্ত
গত ৩ মার্চ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় চাঁদাবাজির একটি মামলা দায়ের করেন নাসরিন আক্তার। মামলায় গিয়াস উদ্দিন, বাদল মিয়া, ভুচকি বাবু, শাহীন আলম, আকিব হোসেন, আওলাদ হোসেন এবং দলিল লেখক কাশেমসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে আওলাদ ও আকিব মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন।
অফিস পরিচালনায় সিন্ডিকেটের প্রভাব
সূত্র জানায়, সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের নেতৃত্বে অফিসটিতে অনিয়মের প্রবাহ দীর্ঘদিনের। সহকারী সাব-রেজিস্ট্রার হারিস, আওলাদ, আকিব, এনামুল, মোস্তফা, ইমরান, ইউসুফ এবং দুদকের হাতে ঘুষ নেওয়ার সময় গ্রেপ্তার হওয়া ষাট টাকার উমেদার সোবহানের শ্যালক রাজীব—সবাই মিলে অফিসের ভেতরেই একটি অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করেছেন। সোবহান জামিনে থাকলেও নিয়মিত অফিসে উপস্থিত হন না বলে জানা গেছে।
দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি
মামলার বাদী নাসরিন আক্তারের দাবি, তার স্বামী মাহবুব গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকল নবিশ হিসেবে কর্মরত। নকল নবিশ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রির সিন্ডিকেট তাদের পরিবারকে টার্গেট করে। মাহবুবের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে কাজ করতে না দেওয়া, ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে—চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মাহবুবকে মারধর করা হয়। ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভুয়া দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও একটি গুরুতর ঘটনা। ২০২৩ সালের ১০ জুলাই যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৫১৩৬ নম্বর একটি ভুয়া দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়, যার বিষয়ে এক ভুক্তভোগী সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
ভিডিও ফুটেজে ঘুষ লেনদেনের চিত্র
সম্প্রতি নাগরিক প্রতিদিনে ‘ষাট টাকার উমেদারের কোটিপতি বনে যাওয়া’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন কিছু ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। একটি ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়—অফিসের ভেতরে বসেই ঘুষ লেনদেন চলছে এবং দালালচক্র খোলামেলাভাবে অর্থ সংগ্রহ করছে।
ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান
মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা জানান, এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে তারা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি—দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত আপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ মনিটরিং ও প্রশাসনিক তদারকি জরুরি।
সূত্র: নাগরিক প্রতিদিন