[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

অপরাধ
২:৪৫ অপরাহ্ণ, ১ জুন ২০২৬

মুন্সিগঞ্জে গণধর্ষণের পর হত্যা করে ফেলে দেওয়া হয় নদীতে আটক ৪

গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধ:   মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর শাখা ফুলদী নদী থেকে হাত-পা বাঁধা ও গলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার মূল রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এটি মূলত পূর্বপরিকল্পিত গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এই চাঞ্চল্যকর অপরাধের সাথে জড়িত ৪ জন আসামিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা […]

মুন্সিগঞ্জে গণধর্ষণের পর হত্যা করে ফেলে দেওয়া হয় নদীতে আটক ৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধ:

 

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর শাখা ফুলদী নদী থেকে হাত-পা বাঁধা ও গলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার মূল রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এটি মূলত পূর্বপরিকল্পিত গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এই চাঞ্চল্যকর অপরাধের সাথে জড়িত ৪ জন আসামিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। মুন্সিগঞ্জ পিবিআই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

জানা যায়, গত ২৯ মে ২০২৬ তারিখে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে পুলিশ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে। লাশটি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

 

নিহত তরুণীর নাম হালিমা আক্তার (১৯)। তিনি গজারিয়া থানার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামলদী গ্রামের মো. মহসিন বেপারীর কন্যা। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলার একটি চৌকস টিম ৩০ মে ২০২৩ তারিখে অভিযান পরিচালনা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘটনার সাথে জড়িত ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর এলাকার ভাড়াটিয়া আবু কালাম (৪৮), বড় ভাটেরচর এলাকার মো. জামাল হোসেন (৪৪), মো. রাসেল মিয়া (৪৪) এবং মো. আলামিন প্রধান (৫০)।

 

পিবিআই-এর জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ভিকটিম হালিমা আক্তারের কাছে আসামি আবু কালামের আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা এবং আসামি রাসেলের ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এই পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এবং আসামি জামালের সাথে হালিমার শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সম্মানহানি হতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে আসামিরা হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যাকাণ্ডের আনুমানিক ১৫ দিন আগে গজারিয়ার হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আসামিরা হালিমা আক্তারকে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমা আক্তারকে ডেকে আনা হয়। এরপর একটি নৌকায় করে নদীর ওপারে গজারিয়ার ‘বড় ভাটেরচর’ চকের ভেতরের একটি ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আসামিরা পর্যায়ক্রমে তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে পৈশাচিকতার চরম রূপ হিসেবে হালিমার পরনে থাকা প্যান্ট/টাইটস দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ ও আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যে আসামিরা মৃতদেহের হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন আসামিই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি প্রদান করেছে।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com