[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

Uncategorized
৬:১৬ অপরাহ্ণ, ৫ জুন ২০২৬

পনের হাজার টাকা বেতনে চাকুরী গজারিয়া এসিল্যান্ড অফিসের কোটিপতি ড্রাইভার নজরুল !

ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদন: ১৫ হাজার টাকা বেতনের অস্থায়ী চাকুরি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) র ড্রাইভার নজরুল। অথচ অল্প সময়েই হয়েছেন তিনি কোটিপতি। এটা কোন রূপকথার গল্প নয় এটা বাস্তব সত্যি! বিভিন্ন সূত্রে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসিল্যান্ড অফিসের এসিলান্ডের পার্সোনাল ড্রাইভার হওয়ার সুবাধে বিগত কয়েক বছরে আগত গজারিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)দের সাথে সখ্যতা […]

পনের হাজার টাকা বেতনে চাকুরী গজারিয়া এসিল্যান্ড অফিসের কোটিপতি ড্রাইভার নজরুল !
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মিনিটে পড়ুন |

ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদন:

১৫ হাজার টাকা বেতনের অস্থায়ী চাকুরি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) র ড্রাইভার নজরুল। অথচ অল্প সময়েই হয়েছেন তিনি কোটিপতি। এটা কোন রূপকথার গল্প নয় এটা বাস্তব সত্যি! বিভিন্ন সূত্রে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসিল্যান্ড অফিসের এসিলান্ডের পার্সোনাল ড্রাইভার হওয়ার সুবাধে বিগত কয়েক বছরে আগত গজারিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)দের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে জমির খাজনা, খারিজ ,নামজারি, দাখিলা ও ভূমি অফিসে নানান দালালি, অনিয়ম ,জাল জালজালিয়াতি ও ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম করে ড্রাইভার নজরুল আজ কোটি কোটি টাকা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ড্রাইভার নজরুলের বিরুদ্ধে। এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে অত্র অফিসের কোটিপতি ডাইভার নজরুল গ্রামের বাড়ি ইমামপুর ইউনিয়নে হলেও বর্তমানে চাকুরির সুবাদে গজারিয়া ইউনিয়নের গোসাইরচর গ্রামে ২২ শতক জায়গা ক্রয় করে তিন তলা ফাউন্ডেশনে একতলা কমপ্লিট করে করে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে নির্মাণ করেছেন একটি ভবন । যে ব্যক্তি ২০১৮ সালে সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহে কাঠ খড় পোহাতে হতো সেই ব্যক্তি কয়েক বছরের ব্যবধানে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন গজারিয়া উপজেলার এসিল্যান্ড এর ড্রাইবার নজরুল ইসলাম ।

শুধু তাই নয় তার স্ত্রী কয়েক বছর আগে বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে ঘুরে হকারি করে মহিলাদের অন্তর্বাস সহ নানান পণ্য বিক্রি করতো । সেই পরিবারটি আজ কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক । এই সম্পদের উৎস কি বিভিন্ন মহলের এটাই প্রশ্ন ? সরেজমিন তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইউনিয়নের গোসাইর চর গ্রামে গেলে গ্রামের ও আশেপাশের বিভিন্ন বিভিন্ন পেশার লোকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানান যে লোক আউটসোর্সিংয়ে ১৫ হাজার টাকা বেতনের চাকুরি করে সেই নজরুল এই অল্প দিনে এত বড় বাড়ি । ষোল আনি মৌজায় ৫৩ শতাংশ জমি ক্রয় । নামে- বেনামে ব্যাংকে অঢেল টাকা কিসের বদৌলতে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মহলের । এসিল্যান্ড এর ড্রাইবার নজরুল এরই মধ্যে গোসারচর এর বাড়িতে পাঁচটি কক্ষে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে এসি(এয়ারকন্ডিশন) লাগিয়েছেন ঠান্ডা হওয়ার সাধ নিতে। ২২ শতাংশ জমির উপর তিন তলা ফাউন্ডেশন এর একতলা ভবন এর মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করেছে নজরুল।

অন্যদিকে কিছু দিন আগে এক বিবাহতে ১৯ লক্ষ টাকা খরচ করে বিবাহ সম্পন্ন করেছে এমনটি শোনা যায় এলাকার লোকদের কাছ থেকে। সরকারি অফিসের একজন অস্থায়ী ড্রাইভার এর হঠাৎ কোটি কোটি টাকা ও সম্পদের বিষয়ে তদন্ত-পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মহল। আরো জানা যায় সরকারি খাস জমি বরাদ্দের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলোও ষোলআনা মৌজায় ৫৩ শতাংশ খাস জমি এসিলেন্ড এর সাথে মহরম দহরম সম্পর্কর কারণে বরাদ্দ নিয়েছেন এক কথায় তাদের অপকর্মের তথ্য ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে। মুন্সিগঞ্জ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের কে এই বিষয়টি খতিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।

ইমাম রাজু টুলু  গজারিয়া উপজেলা এসিল্যান্ড থাকা অবস্থায় ২০২২ সালে ২৩ সালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র জমি অধিগ্রহণ থেকে ১০% কোন ক্ষেত্রে ২০ পার্সেন্ট ২৫% কমিশন এসিলান্ডের সাথে যোগসাজশে হাতে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। শুধু তাই নয় গজারিয়ায় সাবেক এসিলান্ড মামুন শরীফের সময় অবৈধ বালু মহলগুলো থেকে প্রতিরাতে লক্ষ লক্ষ টাকা এসিল্যান্ডের ক্যাশিয়ার হিসাবে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্রের কাছ থেকে আদায় করে নিয়ে আসতো নজরুল ইসলাম। এই টাকার থেকে একটি অংশ পেত নজরুল। ইতিমধ্যে অবৈধ অবৈধ বালু-মহল পরিচালনা, ঘুষ দুর্নীতি ,নানান অনিয়মের অভিযোগে মামুন শরীফ কে প্রত্যাহার করে ওএসডি করা হয়েছে। মামুন শরীফ প্রত্যাহার হলেও মামুন শরীফের পেতাত্মা রয়ে গেছে গজারিয়া এসিলান্ড অফিসে । এছাড়া প্রকাশ আছে সাবেক এসিলান্ড ইমাম রাজু টুলুকে নিয়ে বিভিন্ন সময় ডিস্কো বারসহ অনৈতিক কাজের যোগান দিত এই ড্রাইভার নজরুল এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি সময়ে অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে তিনি গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে মোবাইল কোর্ট সহ অন্যান্য বিষয়ে ভয় দেখিয়ে এসিলেন্ডেরদের নাম ভাঙ্গিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য প্রমানও এসেছে আমাদের হাতে। ইতিমধ্যে থ্রি- অ্যাঙ্গেলের ভূমিদস্যুতারকে বৈধতা দিতে কোম্পানিটির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসিল্যান্ডের ড্রাইভার এর পাশাপাশি অফিসে বিভিন্ন খাত থেকে যে অবৈধ টাকা আসে সেই টাকার ক্যাশিয়ার এর দায়িত্বে আছেন নজরুল । গজারিয়া এসিলান্ড অফিসের একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানান কিছুদিন আগে গজারিয়ায় সহকারী কমিশনার( ভূমি) র ব্যবহৃত গাড়ি দিয়ে তার ছেলেকে ড্রাইভারী শেখানোর প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে গাড়িটি কয়েকবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সুচতূর ড্রাইভার নজরুল অফিসকে ভুল তথ্য দিয়ে গাড়ি মেরামতের জন্য কয়েকদফায় অফিস থেকে টাকার বরাদ্দ নেন। ভূমি অফিসে সেবা প্রত্যাশী আগত লোকজন ও বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন ভূমি সংক্রান্ত কাজ নিয়ে অফিসে আসলে তাদেরকে নানান কথাবার্তায় পটিয়ে এবং এসিলান্ডের সাথে তার হরদম মহরম সম্পর্ক এসব তথ্য দিয়ে সেবা প্রত্যাশীদের ব্ল্যাকমেলিং করার অভিযোগ রয়েছে।
আরো জানা গেছে গজারিয়ায় সাবেক এসিলান্ড ইমাম রাজু টুলু তার বাসভবনে বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি পালন করত সেই পশুপাখির বাজার মূল্য চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র, পাখি , বিভিন্ন প্রজাতির বেশি-বিদেশি মুরগি রেখে যান তিনি । এসিল্যান্ড যাওয়ার পর অফিসকে অবগত না করে সে বিভিন্ন প্রজাতির পাখিগুলো তার নিজ বাসায় নিয়ে যায়।

তিনি মামুনের অনুসারী হিসেবে গজারিয়া এসিলান্ড অফিসের ড্রাইভার নজরুল ইসলাম বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে নামজারি, মিউটেশন, খারিজ বাবদ ঘুষ গহন করছে এমনটি করছেন অহরহ এলাকার ভুক্তভোগীরা এ কথা বলেন।

ছয় মাস আগে নিজের ছেলেকে এলজিইডি তে ড্রাইভার হিসেবে চাকুরি দিয়েছেন মোটর অংকের ঘুষের বিনিময়ে এমনটি অভিযোগ করেন যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকুরি না পাওয়া ড্রাইভারেরা। এদিকে গজারিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি)র ড্রাইভার নজরুলের ঘুষ- দুর্নীতি, নানান অনিয়ম ,অপকর্মের বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ফোন রেখে দেয় এবং বলে যা পারিস তাই কর । এই বলে ফোন কেটে দেন।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com