ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী-বৈদ্যের বাজার নৌপথে মেঘনা নদীর নাব্যতা রক্ষার নামে বিআইডব্লিউটিএ পরিচালিত ড্রেজিং কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অবৈধ বালু বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অনুমোদনের আড়ালে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গভীর রাতে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে, যার মাধ্যমে প্রতি রাতে হাতবদল হচ্ছে অর্ধকোটিরও বেশি টাকা।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি লোডিং ড্রেজারের সাহায্যে ৫০ থেকে ৬০টি বাল্কহেডে বালু তোলা হয়। প্রতিটি বাল্কহেডে ১৫ থেকে ৩৫ হাজার ঘনফুট বালু পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতি রাতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ড্রেজিং কার্যক্রমের আড়ালে পরিচালিত এই বাণিজ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতবদল হলেও সরকারের রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এদিকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার হাট। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও তীর ক্ষয়ের ফলে হাটটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি হাটসংলগ্ন দুটি বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ও বাজারকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল।
জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ উপজেলা ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ড্রেজিংকৃত মাটি অপসারণের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে আবেদনকারী মমিনুল মোমেন সিকদারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী খামারগাঁও মৌজার নির্ধারিত স্থানে মাটি ফেলার কথা ছিল। একই সঙ্গে সুরক্ষা বাঁধ (প্রোটেকশন ওয়াল) নির্মাণ এবং প্রশাসনিক তদারকির শর্তও আরোপ করা হয়েছিল।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে এসব শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে না। বরং ড্রেজিংয়ের আড়ালে নদী থেকে সরাসরি বালু উত্তোলন করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় জেলেরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। মাছ ধরার জাল, চাঁইসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মাহবুব বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাবো।” তবে পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। এটি মূলত বিআইডব্লিউটিএ’র তদারকির বিষয়।”
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নদী রক্ষার প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ড্রেজিং কার্যক্রম যদি অবৈধ বালু উত্তোলনের মাধ্যম হয়ে ওঠে, তবে এর দায়ভার কার? সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব কোথায় যাচ্ছে? কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এই বালু বাণিজ্য চক্র? এবং কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না?
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় নদীভাঙন, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের
এদিকে আরো জানা যায় এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের অসাধু কিছু কর্মকর্তা জড়িত বলে এলাকাবাসী জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মমিন শিকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সকল বিষয়েরে এরিয়ে যান এবং বিআইডব্লিউটিএ এর প্রধান প্রকৌশল এর সাথে কথা বলার জন্য বলেন ।
(চলবে— দ্বিতীয় পর্বে: কারা রয়েছে এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে, কোথায় যাচ্ছে প্রতিরাতের বিপুল অর্থ এবং কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে পুরো বালু বাণিজ্য চক্র।)