মনসুর আলম, গোয়াইনঘাট: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলং দিন দিন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা এবং উন্মুক্ত স্থানে শৌচাগারের বর্জ্য নিষ্কাশনের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়ছে, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সীমান্তবর্তী এ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য। সরেজমিনে দেখা গেছে, […]
মনসুর আলম, গোয়াইনঘাট:
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলং দিন দিন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা এবং উন্মুক্ত স্থানে শৌচাগারের বর্জ্য নিষ্কাশনের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়ছে, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সীমান্তবর্তী এ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কেট, রেস্টুরেন্টের পেছনের অংশ, মূল সিঁড়ির দুই পাশ, সিঁড়ির নিচের দোকানপাট এবং জিরো পয়েন্ট এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। স্থানীয় রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে অপসারণ না করে যেখানে-সেখানে ফেলে রাখায় পুরো এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পর্যটন কেন্দ্রের একাধিক টয়লেটের মানববর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মার্কেটের পূর্ব পাশে রাতের আঁধারে ময়লা ও বাথরুমের বর্জ্য ফেলার কারণে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পর্যটকরা জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এছাড়া পর্যটনকেন্দ্রসংলগ্ন বনায়ন এলাকায় ভ্রমণকারীদের ফেলে যাওয়া ওয়ান-টাইম প্লেট, গ্লাস, চিপস ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের প্যাকেট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে বনাঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জাফলংয়ে বেড়াতে আসা হোসেন মিয়াসহ কয়েকজন পর্যটক বলেন, জাফলংয়ের পাহাড় ও নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলাম। কিন্তু চারদিকে ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে পরিবেশ অত্যন্ত বিরূপ। রেস্টুরেন্টগুলোর পেছনে এবং সিঁড়ির দুই পাশে যেভাবে বর্জ্য জমে আছে, তা একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জাফলং পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ হারাবে।
জাফলং বিজিবি ক্যাম্প পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পর্যটন এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, এটি সত্য। আমরা ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার জন্য নিয়মিত অনুরোধ করে আসছি। তবে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন ও কার্যকর বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থার অভাবে সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত একটি টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, জাফলংয়ের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং রাতের বেলায় বাথরুমের বর্জ্য নিষ্কাশনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্র পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।
ছবি ক্যাপশন: পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ের বিজিবি ক্যাপ লালমাটি এলাকায় মার্কেটের পিছনে বর্জ্যের স্তূপ।