ঢাকা
১১ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ
ইংলিশ অলিম্পিকে এশিয়া মহাদেশে প্রথম হওয়া কৃতি শিক্ষার্থী তাজকে সংবর্ধনা । টানা বর্ষণে দুর্যোগের শঙ্কা, আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে রাঙ্গামাটি জেলা জামায়াত ভূঞাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা গোপালপুরে কাবিটার রাস্তার ইট তুলে বাড়িতে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ ইউপি সদস্য দম্পতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ     গোপালপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সিলেটের স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টারের বিরুদ্ধে ভূল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ পানির অভাবে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন, দিশেহারা হাজারো কৃষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোস্টেশন বন্ধ আজ নবম পে–স্কেল উপেক্ষা করে সচিবালয় কর্মচারীদের ২০% ভাতা—বৈষম্যের অভিযোগে মাঠ পর্যায়ে ক্ষোভ মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীরা।
Advertise with us

বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিতে ফ্রান্সের সামনে স্পেন

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬   ১৫ বার পঠিত
বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিতে ফ্রান্সের সামনে স্পেন

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->

একের পর এক শট ঠেকিয়ে স্পেনের সামনে প্রতিরোধের দেয়াল গড়লেন তিবো কোর্তোয়া। তবে ম্যাচের মিনিট বিশেক বাকি থাকতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি কান্নাভেজা চোখে। ম্যাচে বেলজিয়ামের সম্ভাবনাও যেন বেরিয়ে গেল তার সামনে। বদলি নামা গোলকিপার সানা লমেন্সের হাত থেকে ফসকে আসা বলে আবার নায়ক হয়ে উঠলেন মিকেল মেরিনো। এই সুপার সাবের শেষের গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে পা রাখল স্পেন।

লস অ্যাঞ্জেলসের সোফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ার্টার-ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে স্পেন। ফাবিয়া রুইসের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমার্ধেই সমতা টানেন শার্লে ডে কেটলারে। আর শেষ দিকে ব্যবধান গড়ে দেন মেরিনো।

আগের ম্যাচে বদলি নামার ছয় মিনিটের মধ্যে গোল করে পর্তুগালকে বিদায় করে দিয়েছিলেন এই মেরিনো। এবার গোল করলেন মাঠে নামার মিনিট দুয়েকের মধ্যেই।

পুরো ম্যাচেই পজেশন ও আক্রমণে আধিপত্য করে স্পেন। ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য তাদের ১৭ শটের আটটি লক্ষ্যে ছিল, আর বেলজিয়াম পাঁচ শট নিয়ে কেবল দুটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে।

এই জয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠল স্প্যানিশরা। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের পরের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। আর গত দুই আসরেই তাদের পথচলা শেষ হয় শেষ ষোলোয়।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশরা।

প্রত্যাশিতভাবেই শুরু থেকে বেশিরভাগ সময় বল দখলে রেখে খেলতে থাকে স্পেন। যদিও আক্রমণে তেমন আহামরি কিছু করতে পারছিল না তারা।

দশম মিনিটে একটি সেট পিসের পর ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান রদ্রি, তার শট রক্ষণে প্রতিহত হয়। ১১ মিনিট পর, ডি-বক্সের বাইরে জায়গা বানিয়ে শট নেন লামিন ইয়ামাল, যেটা লক্ষ্যে ধারেকাছেও ছিল না।

৩০তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শটেই সাফল্য পেয়ে যায় স্পেন। ডানদিকে ইয়ামালের দারুণ পাস পেয়ে ডি-বক্সে দানি ওলমোকে খুঁজে নেন পেদ্রো পররো, প্রথম ছোঁয়ায় ওলমোর শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন কোর্তোয়া, ফিরতি বল ফাঁকায় পেয়ে জোরাল শটে বিশ্বকাপে প্রথম জালের দেখা পান রুইস।

পাঁচ মিনিট পর, ডি-বক্সের বাইরে ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় স্পেন। তরুণ ফরোয়ার্ডের শট রক্ষণ দেয়ালের বাধা এড়িয়ে লক্ষ্যেই ছিল, ঝাঁপিয়ে ঠেকান কোর্তোয়া।

এর কিছুক্ষণ পরই সমতায় স্বস্তি ফিরে বেলজিয়ান শিবিরে। ৪১তম মিনিটে ডান দিক থেকে টিমোটি ক্যাস্তানির দারুণ ক্রস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে, নিখুঁত হেডে গোলটি করেন ডে কেটলারে।

প্রথমার্ধে তাদের দুই শটের এটাই কেবল লক্ষ্যে ছিল। বিশ্বকাপে ১০ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট পর স্প্যানিশদের জালে বল জড়াল।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন এই ফরোয়ার্ড। শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রের জালে জোড়া গোল করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন স্পেন কোচ। অ্যালেক্স বায়েনা ও রুইসকে তুলে নামান ফেররান তরেস ও পেদ্রিকে। পাঁচ মিনিট পর বেলজিয়াম করে তিনটি বদল; মাঠে নামেন অ্যাক্সেল উইটসেল, রোমেলু লুকাকু ও জোয়াকিন সেইস।

৬১তম মিনিটে ডান দিকে একটু কাট করে বাঁয়ে সরে এসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শট নেন ইয়ামাল, তবে কোর্তোয়া ছিলেন প্রস্তুত, ঝাঁপিয়ে আটকান তিনি। এক মিনিট পর, ওইয়ারসাবালের প্রচেষ্টাও রুখে দেন রেয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক।

চোটের ছোবলে শেষ পর্যন্ত অবশ্য পোস্ট পাহারা দিতে পারেননি কোর্তোয়া। উরুতে ব্যথা অনুভব করায়, একটু পরই উঠে যান তিনি, বদলি নামেন লমেন্স।

চোট কাটিয়ে উঠলেও পুরো সময় খেলার মতো ফিট নন নিকো উইলিয়ামস। ফলে, গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে বদলি হিসেবে কিছু সময় খেলার পর, নকআউট পর্বের দুই ম্যাচের পুরোটা সময় বেঞ্চেই কাটান তিনি। তাকেই ৭৯তম মিনিটে মাঠে নামানো হয় ওইয়ারসাবালকে তুলে নিয়ে। একটু পর মাঠে নামেন পর্তুগালের বিপক্ষে জয়ের নায়ক মেরিনো।

এবং মাঠে নামার দুই মিনিটের মধ্যেই দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান মেরিনো। তরুণ সেন্টার-ব্যাক পাউ কুবার্সির নিচু শট ঝাঁপিয়ে আটকালেও, বল হাতে রাখতে পারেননি লমেন্স। ছুটে এসে আলগা বল জালে পাঠান আর্সেনাল তারকা মেরিনো।

ওখানেই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ হয়ে যায়। বিশ্বকাপে দুটি গোল করলেন মেরিনো। আগেরটি করেন পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোয়, শেষ দিকে বদলি নামার ছয় মিনিটের মাথায়। যোগ করা সময়ে তার একমাত্র গোলেই জয় পায় স্পেন।

এখানে যোগ করা সময়ে লড়াইয়ে নাটকীয় রূপ দেওয়ার একটা সুযোগ অবশ্য পেয়েছিল বেলজিয়াম। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বাইলাইন থেকে গোলমুখে ক্রস বাড়ান জেরেমি ডোকু, তবে দারুণভাবে ক্লিয়ার করে বিপদ হতে দেননি এমরিক লাপোখ্ত‌।

একটু পরই বাজে শেষের বাঁশি। স্বপ্নের অভিযানে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির, আর হতাশায় নুইয়ে পড়ে বেলজিয়ামের সবাই।

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa