[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

অপরাধ
১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, ২১ জুন ২০২৬

ভূমি অফিসের কর্মচারী থেকে অর্ধশতকোটি টাকার সম্পদের মালিক! গজারিয়ার মুক্তার মিয়ার ঘরে গুপ্তধন !

নিজস্ব প্রতিবেদক:   জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর মুক্তার হোসেনের ঘরে এসেছে রহস্যময় গুপ্তধন ! যার বদৌলতে তিনি ও তার পরিবার এখন কোটি কোটি টাকা বিপুল সম্পদের মালিক! তবে এই গুপ্তধন সেই আলাদিনের চেরাগের গুপ্তধন নয়! এই গুপ্তধন হলো অবৈধ পন্থায় অর্জন করা অর্থে আলিশান বাড়ি, ফ্লাট ,দোকান, বিঘা বিঘা জমি, নামে […]

ভূমি অফিসের কর্মচারী থেকে অর্ধশতকোটি টাকার সম্পদের মালিক! গজারিয়ার মুক্তার মিয়ার ঘরে গুপ্তধন !
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর মুক্তার হোসেনের ঘরে এসেছে রহস্যময় গুপ্তধন ! যার বদৌলতে তিনি ও তার পরিবার এখন কোটি কোটি টাকা বিপুল সম্পদের মালিক! তবে এই গুপ্তধন সেই আলাদিনের চেরাগের গুপ্তধন নয়! এই গুপ্তধন হলো অবৈধ পন্থায় অর্জন করা অর্থে আলিশান বাড়ি, ফ্লাট ,দোকান, বিঘা বিঘা জমি, নামে বেনাম কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্সের মাধ্যমে হঠাৎ বিপুল বৃত্ত ভৈরবের মালিক বনে যাওয়ায় গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারের এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ।

এদিকে অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম নানা অপকর্মের মাধ্যমে এই পাহাড় সমান সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তবে এই সম্পদ তার স্ত্রী, আত্মীয় স্বজনের নামে কিনেছেন মুক্তার হোসেন আইনের হাত থেকে বাঁচতে এমনটাই জানা গেছে অনুসন্ধান কালে । বর্তমানে কর্মরত আছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শিক্ষা শাখায়। এদিকে আরো জানা গেছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের পোড়া চক বাউসিয়ার স্কুল সংলগ্ন পূর্ব নয়া কান্দির বাসিন্দা মুক্তার হোসেন । এক সময়ের ভূমি অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (অফিস সহকারী/কম্পিউটার অপারেটর) ছিলেন মো. মুক্তার মিয়া । এই সরকারি চাকুরির সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন, এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে । স্থানীয়দের দাবি, সাধারণ জেলে পরিবারের সন্তান হয়েও একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই নিয়ে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মহলে চলছে নানান কানাঘুষা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তার মিয়ার পিতা আব্দুল সামাদ মিয়া একসময় নৌকার মাঝি ও জেলে হিসেবে অতি সাধারণ ভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারটির সম্পদ বলতে ছিল সামান্য বসতভিটায় ছোট্ট একটি ঘর, একটি ছোট ডিঙি নৌকা এবং মাছ ধরার কিছু উপকরণ। আর্থিক দৈন্যতা কারণে পরিবারের অন্য সদস্যরা তেমন লেখাপড়া করতে পারেনি তব মুক্তার মিয়াকে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেন ।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর চাকুরিতে যোগদানের পর হঠাৎ মুক্তার মিয়ার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। কদিন পরপর জমি ক্রয় ফ্ল্যাট ,বাড়ি নির্মাণ বিভিন্ন ব্যবসা অর্থ লগ্নি সহ টাকার ঝনঝনানি শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি বাউশিয়ার পূর্ব নয়াকান্দি এলাকায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন তিন তলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এলাকার বিভিন্ন পেশার লোকজন এর সাথে আলাপ কালে তারা জানান বাড়িটির প্রতিটি দরজা, টাইলস, ফার্নিচার ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—একজন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এত অল্প সময়ে এমন সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব?

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাউশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে অভিভাবক সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার সময় মুক্তার মিয়া বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। একইভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ নানা আয়োজনে নিজেকে শিল্পপতি পরিচয়ে লক্ষাধিক টাকা অনুদান দেওয়ার বিষয়টিও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়ায় শামসুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পূর্ব পাশে শান্তিবাগ এলাকায় একটি ভবনের ৩,৬০০ বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন তিনি, যার বর্তমান বাজারমূল্য দুই কোটিরও বেশি। । যা সরেজমিনে তদন্তে পাওয়া যায়। এছাড়া গ্রামের বাড়ির আসবাবপত্র ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায়ও প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তার মিয়া প্রথমে গজারিয়া ভূমি অফিসে নাজির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা শাখায় কর্মরত রয়েছেন।

এছাড়া বাউশিয়া এলাকার পুরাচক বাউশিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে নিজের এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঢাকার সানারপাড় এলাকাতেও তার পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে স্ত্রী, শ্যালক, সমন্ধি ও অন্যান্য নিকট আত্মীয়ের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

 

মুক্তারের স্ত্রী নামের ন্যাশনাল ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে এমনটি গোপন সূত্রে জানা যায়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, অতীতে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন বৈধ ও অবৈধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হতো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এমনকি জাতীয় দিবস উপলক্ষে কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মুক্তার মিয়ার সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছে। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে।

অভিযোগের বিষয়ে মুক্তার মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

(প্রথম পর্ব… আরও অনুসন্ধানী তথ্য নিয়ে পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে)

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

সর্বশেষ