[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

অপরাধ
৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ, ২৩ জুন ২০২৬

মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদ এর দুর্নীতির রাজা সার্ভেয়ার ইসমাইলের সম্পদের পাহাড় !

  নিজস্ব প্রতিবেদক:   মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের দুর্নীতির এক রাজার নাম সার্ভেয়ার ইসমাইল হোসেন । দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আছেন একই জায়গায় । যার সুবাদে ঘুষ- দুর্নীতি নানান অনিয়ম ও অপকর্মের মাধ্যমে তিনি এখন কোটি কোটি টাকা পাহাড় সমান সম্পদের মালিক হয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ থেকে বটগাছ এমন গুরুত্ব অভিযোগ পাওয়া গেছে […]

মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদ এর দুর্নীতির রাজা সার্ভেয়ার ইসমাইলের সম্পদের পাহাড় !
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মিনিটে পড়ুন |

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের দুর্নীতির এক রাজার নাম সার্ভেয়ার ইসমাইল হোসেন । দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আছেন একই জায়গায় । যার সুবাদে ঘুষ- দুর্নীতি নানান অনিয়ম ও অপকর্মের মাধ্যমে তিনি এখন কোটি কোটি টাকা পাহাড় সমান সম্পদের মালিক হয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ থেকে বটগাছ এমন গুরুত্ব অভিযোগ পাওয়া গেছে সার্ভেয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে এই সম্পদ তার স্ত্রীও আত্মীয়-স্বজনের নামে করেছেন। এদিকে বিভিন্ন সূত্রে অনুসন্ধানে জানা গেছে আওয়ামী সরকারের দোসর সু চতুর সার্ভেয়ার ইসমাইল হোসেন যার বদৌলতে তিনি ও তার পরিবার এখন কোটি কোটি টাকা বিপুল সম্পদের মালিক! তবে এই পাহাড় সমান সম্পদ সেই আলাদিনের চেরাগের গুপ্তধন নয়! এই পাহাড় সমান সম্পদ অবৈধ পন্থায় অর্জন করা অর্থে নির্মাণাধীন আলিশান বাড়ি, গরুর ফার্ম, ব্রিক ফিল্ড, তেল সরবরাহের লাইসেন্স ,দোকান, বিঘা বিঘা জমি, নামে বেনাম এক কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্সের মাধ্যমে হঠাৎ বিপুল বৃত্ত ভৈরবের মালিক বনে যাওয়ায় গুরুতর অভিযোগ একাধিকবার উঠার পরও সরকারের এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সার্ভের ইসমাইল ছিল বেপরোয়া । এদিকে অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ঘুষ দুর্নীতি, প্রকল্প অনিয়ম, নানা অপকর্মের মাধ্যমে এই পাহাড় সমান সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তবে এই সম্পদ তার স্ত্রী, শশুর, আত্মীয় স্বজনের নামে কিনেছেন ইসমাইল হোসেন আইনের হাত থেকে বাঁচতে এমনটাই জানা গেছে অনুসন্ধান কালে । সূত্রে প্রকাশ মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিনের সাথে ছিল এই সার্ভেয়ারের দহরম মহরম সম্পর্ক।  মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সার্ভেয়ার পদে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের সাথে আঁতাত করে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতে নেন সার্ভেয়ার ইসমাইল ও তার সহযোগিরা ।

 

এদিকে আরো জানা গেছে সাভার উপজেলার নবীনগর পশ্চিম পাড়ায় দশ কাঠা জায়গার উপর ছয় তলা ফাউন্ডেশনের চার তলার আলিশান বাড়ি নির্মাণাধীন চলছে। মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের আব্দুল মান্নানের ছেলে এই ইসমাইল । এক সময়ে পত্রৈক ভূমি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেলে ভুমি শূন্য হয়ে পাশের গ্রামে মামা কুদ্দুস শেখ এর বাড়িতে আশ্রয় নেয় তার পরিবার। মামার বাড়ি থেকে লেখাপড়া ও টিউশনি করে সার্ভে কলেজে ভর্তি হন। জেলা পরিষদ মুন্সিগঞ্জ কার্যালয়ে স্থায়ী ভিত্তিতে সার্ভেয়ার পদে নিযুক্ত হয়ে এই সরকারি চাকুরির সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন, এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে । স্থানীয়দের দাবি, সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই নিয়ে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মহলে চলছে নানান কানাঘুষা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন পিতা আব্দুল মান্নান মিয়া একসময় মাটিকাটা ও অন্যের জমিনে কাজ করে অতি সাধারণ ভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারটির সম্পদ বলতে ছিল সামান্য বসতভিটায় ছোট্ট একটি ঘর, একটি ছোট ডিঙি নৌকা এবং মাছ ধরার কিছু উপকরণ। আর্থিক দৈন্যতা কারণে পরিবারের অন্য সদস্যরা তেমন লেখাপড়া করতে পারেনি তবে বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ার পর মামার বাড়িতে থেকে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেন ।

 

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীর চাকুরিতে যোগদানের পর হঠাৎ ইসমাইল হোসেনের আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। কদিন পরপর জমি ক্রয়, ফ্ল্যাট ,বাড়ি নির্মাণ বিভিন্ন ব্যবসা অর্থ লগ্নি সহ টাকার ঝনঝনানি শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি সাভার নবীনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় তলা ফাউন্ডেশন চার তলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এলাকার বিভিন্ন পেশার লোকজন এর সাথে আলাপ কালে তার জানান বাড়িটির প্রতিটি দরজা, টাইলস, ফার্নিচার ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—একজন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এত অল্প সময়ে এমন সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব?

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁচামারা ইউনিয়নে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মসজিদ মাদ্রাসায় বাৎসরিক অনুষ্ঠানে কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন। লক্ষাধিক টাকা অনুদান দেওয়ার বিষয়টিও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর জিগাতলা বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রব অভিজাত্য এলাকায় একটি ভবনের ৩,৬০০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন তিনি, যার বর্তমান বাজারমূল্য দুই কোটিরও বেশি। । যা সরেজমিনে তদন্তে পাওয়া যায়। এছাড়া ফ্ল্যাট ও বাড়ির আসবাবপত্র ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায়ও প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

সূত্রে জানা যায়, মামা বাড়িতে আশ্রিত হলে মামা কুদ্দুস শেখ তার মেয়ে রহিমা খাতুনকে ভাগিনা ইসমাইলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন। সেই থেকে শ্বশুর কুদ্দুস শেখ কে পিছনে তাকাতে হয়নি। মেয়ের জামাই ইসমাইল হোসেনের গুপ্তধনের রক্ষক হিসেবে মানিকগঞ্জ সদরে ব্রিক ফিল্ডে প্রায় দুই কোটি টাকা লগ্নি করে মামা কুদ্দুস শেখের মাধ্যমে। এবং বাঁচামারা বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি লাইসেন্স ও দোকান  পজিশন সহ অন্যান্য বাবদ  ৩০ লক্ষ টাকা যোগান দেয় সার্ভেয়ার ইসমাইল।

 

প্রতিবেশীরা ইসমাইল সম্পর্কে জানান ইসমাইল এখন বড়লোক হয়ে গেছে এখন আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখে না। এক সময় আমাদের ঘর থেকে খাবার খেয়ে লেখাপড়া করছে এই ইসমাইল ও তার ভাই হারুন রশিদ।

 

এছাড়া বাচামারা এলাকার আশপাশের বিভিন্ন স্থানে নিজের এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঢাকার সাভার এলাকাতেও তার পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে স্ত্রী, শ্যালক, শশুর ও অন্যান্য নিকট আত্মীয়ের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে গ্রামের মামাতো ভাই রফিকুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে তার নিজ বাড়িতে আশি শতক জমির উপর ছয় জন কর্মচারীর মাধ্যমে ৫০/৬০ টি গরু দিয়ে একটি খামার প্রতিষ্ঠা করেছে এই সার্ভেয়ার ইসমাইল হোসেন। যার বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা

 

স্ত্রী , ও সন্তানদের জন্য কিছুদিন আগে পাসপোর্ট পাসপোর্ট করেছে ভ্রমণের জন্য । এর সাথে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে এমনটি গোপন সূত্রে জানা যায়। সরকারি চাকুরিতে যোগদান করে এত অল্প সময়ে পাহাড় সমান সম্পদ ইসমাইল কি করে পেল ? এই নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে নানান গুঞ্জন উঠেছে।

 

 

 

আরও অভিযোগ রয়েছে, ছোট ভাই হারুনুর রশিদের পরিচয় গোপন রেখে ২০২০ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকুরী ব্যবস্থা করেন ইসমাইল । ইসমাইলের ছোট ভাই হারুনুর রশিদ বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি ভাইকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলি করে মুন্সীগঞ্জে নিজ দপ্তরে নিয়ে আসেন সার্ভেয়ার ইসরাইল। বর্তমান অফিসে হারুনুর রশিদ বড় ভাই সার্ভেয়ার ইসমাইলের পথ অনুসরণ করে অবৈধ পন্থায় অনিয়ম করে ঘুষ গ্রহণ ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ চাহিদা যেন তার অফিসের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাহিদার মোতাবেক অর্থ পরিশোধ না করলে ঠিকাদারদের ফাইল কলা কৌশলে অন্য জায়গায় সরিয়ে রাখে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ ইসমাইল হোসেন ও হারুনুর রশিদের এত সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছে এলাকাবাসী । এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মহলের মতে  অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে।

সার্ভেয়ার ইসমাইল বিরুদ্ধে উঠে আসা ঘুষ – দুর্নীতি নানান অনিয়ম এর বিষয় ইসমাইলের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

তবে সরকারি কর্মকর্তা ধরাকে সরা করতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে তাই এই সার্ভেয়ার এর দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিষয় দুর্নীতি দমন কমিশন কে নজর দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল ।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

সর্বশেষ