নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় রাজধানীর বনানী এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন আল মামুন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সাধারণ জীবন থেকে উঠে এসে বর্তমানে তিনি রাজধানীকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, দেহব্যবসা পরিচালনা এবং নারী পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মিরপুর-১ এলাকায় অবস্থিত ‘হোটেল আল মামুন আবাসিক’সহ তার […]
নিজস্ব প্রতিবেদক:
একসময় রাজধানীর বনানী এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন আল মামুন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সাধারণ জীবন থেকে উঠে এসে বর্তমানে তিনি রাজধানীকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, দেহব্যবসা পরিচালনা এবং নারী পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মিরপুর-১ এলাকায় অবস্থিত ‘হোটেল আল মামুন আবাসিক’সহ তার নিয়ন্ত্রণে থাকা একাধিক আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মামুনের নিয়ন্ত্রণে একাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হোটেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণে অনিয়ম করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিচয় গোপন রেখে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মসংস্থান বা আশ্রয়ের সন্ধানে আসা অসহায় নারী ও তরুণীদের একটি চক্রের মাধ্যমে প্রলুব্ধ করা হয়। পরে তাদের আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে বিভিন্নভাবে শোষণের শিকার করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আবাসিক হোটেলগুলোকে কেন্দ্র করে মাদক ও দেহব্যবসার বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া থাকায় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে আল মামুনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যপ্রমাণ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন সাধারণ হোটেল কর্মচারী থেকে বিপুল সম্পদের মালিক এবং একাধিক আবাসিক হোটেলের নিয়ন্ত্রক হিসেবে আল মামুনের উত্থান নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তার অর্থ ও প্রভাবের উৎস কী, কারা তাকে সহযোগিতা করছে এবং অভিযোগের পেছনের বাস্তবতা কতটুকু—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের ধারাবাহিক অনুসন্ধান।
চলবে… (পর্ব–২)